“মুখোমুখি বসলেই মিটবে সমস্যা!” দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক নিয়ে বড় বার্তা দিলেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার

দিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভার্চুয়াল মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফের নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। হাসিনার ওই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। এই জটিল পরিস্থিতির মাঝেই আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লির ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মুখোমুখি বৈঠকেই মিলবে সমাধান: দীনেশ ত্রিবেদী

রবিবার বাংলাদেশের একটি ভিসা আবেদন কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত আশাবাদী সুর শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, “যখন দু’জন নেতার মুখোমুখি সাক্ষাৎ হয়, তখন অনেক জটিল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। আমি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।” তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসা করে ভারতীয় হাইকমিশনার আরও জানান, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করি। তিনি একজন প্রকৃত জননেতা, আর আমাদের প্রধানমন্ত্রীও জননেতা। সবকিছুই ইতিবাচক রয়েছে।” আগামীকালই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

পটপরিবর্তন ও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতি

২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুটা বরফ জমেছিল। তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয়ে ক্ষমতায় আসেন খালেদা-পুত্র তারেক রহমান। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক মেরামতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

কিন্তু সম্প্রতি দিল্লির একটি বেসরকারি সংস্থার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি আত্মপ্রকাশ করে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার বার্তা দেওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ঢাকা। যদিও ভারতের বিদেশ মন্ত্রক আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই অনুষ্ঠানে হাসিনার উপস্থিতি বা তাঁর মন্তব্যের সঙ্গে ভারত সরকারের বিন্দুমাত্র কোনো যোগসূত্র বা সমর্থন নেই। এই বিতর্কের আবহেও আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের সরাসরি বৈঠকই দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বরফ গলাতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।