ক্ষত এখনো টাটকা! ১৪ অগস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘দেশভাগ স্মরণ দিবস’ পালনের কড়া নির্দেশ রাজ্যপালের

দেশভাগের যন্ত্রণা, উদ্বাস্তু মানুষের অসীম দুর্ভোগ এবং সেই সময়ের ত্যাগ ও ক্ষয়ক্ষতির ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ১৪ অগস্ট ‘দেশভাগ স্মরণ দিবস’ (Partition Horror Remembrance Day) হিসেবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রাজভবনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়গুলিই নয়, বরং তাদের অধীনস্থ সমস্ত কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এই দিনটি মর্যাদার সঙ্গে পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ দিনে পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের একসঙ্গে অংশ নিয়ে দেশভাগের ইতিহাস ও তার অভিঘাত স্মরণ করার উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন রাজ্যপাল।
কেন এই উদ্যোগ?
রাজ্যপালের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশভাগের সবচেয়ে গভীর ক্ষতগুলির অন্যতম একটি বহন করছে বাংলা। দেশভাগের জেরে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উদ্বাস্তু হতে হয়েছিল। বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, নষ্ট হয়েছে জীবিকা ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি। একই সঙ্গে বাংলার সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর উপরও এর সুদূরপ্রসারী এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়েছে।
১৪ অগস্টের এই স্মরণ পালনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় সম্পর্কে অবহিত করার বার্তা দিয়েছেন রাজ্যপাল। দেশভাগের নেপথ্যের কারণ, সেই সময়ের সাধারণ মানুষের অকথ্য দুর্ভোগ এবং তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলাটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা
ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বিভাজনের রাজনীতি ও সমাজকে বিভক্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক থাকারও বার্তা দিয়েছেন আর এন রবি। তাঁর স্পষ্ট আহ্বান, দেশভাগের এই বেদনাদায়ক স্মৃতিকে কেবল অতীতের একটি ঘটনা হিসেবে না দেখে, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার অধ্যায় হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট আলাদা রাষ্ট্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছিল পাকিস্তান। বিভক্ত হয়েছিল সেই সময়ের অবিভক্ত বঙ্গ এবং পঞ্জাবও। এরপর ১৫ অগস্ট স্বাধীন হয় ভারত। দেশভাগের সেই মর্মান্তিক যন্ত্রণাকে স্মরণ করেই এবার রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে বড়সড় এই দিবস পালনের ডাক দিলেন রাজ্যপাল।