চাবি কেড়ে নেওয়া বা অশালীন ভাষা ব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না! ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ হাইকোর্টের

ট্রাফিক চেকিংয়ের নামে সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট (Madhya Pradesh High Court)। আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিয়মকানুন প্রয়োগের পূর্ণ অধিকার পুলিশের থাকলেও, নাগরিকদের প্রতি শালীনতা, ন্যায্যতা এবং সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখাও তাদের সমান দায়িত্ব। ট্রাফিক চেকিংয়ের সময় গাড়ি থেকে চাবি ছিনিয়ে নেওয়া, গালিগালাজ বা অকারণে তর্ক করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে: মধ্যপ্রদেশের জবলপুর শহরের বিজয় নগর থানা এলাকার দক্ষিণ সিভিল লাইন্সের বাসিন্দা শ্রেয়াংশ দিওয়ার নামে এক আইনজীবী হাইকোর্টে একটি পিটিশন দাখিল করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, গত ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ট্রাফিক চেকিংয়ের সময় কালমেশ মেশরাম ও অনিল প্যাটেল নামের দুই পুলিশকর্মী তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে গালিগালাজ, হামলা এবং অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন ওই আইনজীবী।
ঘটনার আকস্মিকতায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধিদল জবলপুরের পুলিশ সুপার (SP) সম্পত উপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানালেও স্থানীয় স্তরে আশানুরূপ পদক্ষেপ করা হয়নি। বাধ্য হয়েই বিচার চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই আইনজীবী।
হাইকোর্টের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশ: বিচারপতি হিমাংশু যোশীর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন আদালত পুলিশের কার্যপদ্ধতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু মন্তব্য করে। আদালতের স্পষ্ট বার্তা ছিল—
পুলিশের কাজ যেমন আইন প্রয়োগ করা, তেমনই নাগরিকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণ করাও তাদের অবশ্যকর্তব্য।
ট্রাফিক তল্লাশির নামে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা, চাবি ছিনিয়ে নেওয়া বা সাধারণ মানুষের ওপর জোর খাটানো সম্পূর্ণ অনুচিত।
আইনজীবীর করা আবেদনটি নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট জবলপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে যে, তিনি যেন আইনজীবীর অভিযোগটি আইন অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিবেচনা করে অবিলম্বে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পুলিশের আচরণ এবং সাধারণ নাগরিকদের অধিকারের সুরক্ষার খাতিরে আদালতের এই নির্দেশকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে আইনি মহল।