উত্তরাখণ্ডের পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে বড় ইতিহাস! গুজরাতে রাষ্ট্রপতির সই মিলতেই কার্যকর অভিন্ন দেওয়ানি বিধি

দেশের আইন ও রাজনৈতিক কাঠামোর মানচিত্রে যুক্ত হল আরও এক যুগান্তকারী অধ্যায়। উত্তরাখণ্ডের পথ অনুসরণ করে এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্য গুজরাতেও কার্যকর হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC)। বহুল আলোচিত ‘গুজরাত ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বিল, ২০২৬’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতির এই সবুজ সঙ্কেতের ফলে রাজ্যটিতে এই আইন বাস্তবায়নের সমস্ত আইনি বাধা সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেল।
কী জানাচ্ছে রাজ্য প্রশাসন?
রাষ্ট্রপতির এই ঐতিহাসিক অনুমোদনের খবর নিশ্চিত করে বিজেপির মুখ্য মুখপাত্র অনিল প্যাটেল জানিয়েছেন, বিধানসভায় পাস হওয়া এই বিলটি এখন চূড়ান্ত আইন বা অ্যাক্টে পরিণত হওয়ার পথে। এটিকে সমাজে লিঙ্গসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে শাসকশিবির।
তাঁদের মতে, এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত জীবন সংক্রান্ত বিভিন্ন আইনি জটিলতার অবসান ঘটবে। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিকের জন্য এবার একটি অভিন্ন ও একক আইনি কাঠামো তৈরি হবে।
আইনে কী কী বদল আসছে?
ইউসিসি বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এমন একটি সমন্বিত আইনি ব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত আইন (Personal Law) ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমান থাকে। এতদিন বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, কিংবা সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মের নিজস্ব আলাদা আইন প্রযোজ্য হতো। কিন্তু গুজরাতের এই নতুন আইনে সব সম্প্রদায়ের জন্যই এক নিয়ম বলবৎ হবে।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই আইনে বর্তমান সময়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় অর্থাৎ ‘লিভ-ইন রিলেশনশিপ’ বা সহবাসের ক্ষেত্রেও বিশেষ আইনি নিয়ন্ত্রণ ও বাধ্যতামূলক নিয়মের বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি, গুজরাতের স্থায়ী বাসিন্দারা দেশের অন্য কোথাও বসবাস করলেও তাঁদের ক্ষেত্রেও এই আইনের কিছু শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সংবিধানের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী তপশিলি উপজাতিদের জন্য এতে সুরক্ষার বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই সিলমোহরের পর দেশের অন্যান্য রাজ্যেও এই আইন চালুর দাবি আরও জোরালো হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।