নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাহুল-রিজিজুর ধুন্ধুমার লড়াই! মোদী সরকারকে সরাসরি কোন চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন কংগ্রেস নেতা?

নারী ক্ষমতায়ন এবং বহুচর্চিত ‘নারী সংরক্ষণ বিল’ (Women Reservation Bill) ইস্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। কিছুদিন আগে একটি ভিডিও বার্তায় দেশের নারীদের অবস্থান ও স্বাধীনতা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর সেই বক্তব্যকে সামনে রেখেই এবার কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি কেন্দ্র সরকারের কাছে জানতে চেয়েছেন যে, ২০২৩ সালে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়ে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আইনটি আজও কেন কার্যকর করা হলো না এবং কেনই বা এটিকে অহেতুক ‘ডিলিমিটেশন’-এর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে?

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত রাহুল গান্ধীর সেই ভিডিও বার্তাটিকে প্রথমটায় ‘ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন কিরেন রিজিজু। তিনি দাবি করেছিলেন যে রাহুল গান্ধীর চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে এবং তিনি আশা করেন কংগ্রেস এবার কোনও শর্ত ছাড়াই এই বিলকে সমর্থন করবে। রিজিজুর এই মন্তব্যের পরেই পালটা আক্রমণ শানান রাহুল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “আপনার চেয়ে ভাল আর কে জানবেন যে নারী সংরক্ষণ বিল তো আগেই কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনে পাশ হয়েছে? আসল প্রশ্ন হলো, তিন বছর কেটে যাওয়ার পরও কেন এই আইন কার্যকর করা হলো না?” অবিলম্বে কোনওরকম টালবাহানা ছাড়াই এই বিল রূপায়নের দাবি তোলেন তিনি।

অন্যদিকে, কেন্দ্র সরকারের যুক্তি হলো—সংসদ ও রাজ্য বিধানসভাগুলিতে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে সঠিকভাবে ৩৩ শতাংশ নারী কোটা কার্যকর করতে হলে সর্বপ্রথমে ‘ডিলিমিটেশন’ বা সমসীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির কঠোর দাবি, নতুন করে আসন পুনর্বিন্যাসের জন্য অপেক্ষা না করে বর্তমান সংসদীয় আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই অবিলম্বে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হোক।

নিজের ভিডিও বার্তায় ভারতের সমাজব্যবস্থায় নারীদের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে রাহুল আরও জোরালো সওয়াল করেন। তিনি জানান, ভারতীয় নারীদের প্রকৃত শক্তিকে বরাবর আটকে রাখা হয়েছে এবং তাঁদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার বা মতামত প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা এবং সামাজিক কঠোরতার বেড়াজাল থেকে নারীদের মুক্তি না মিললে দেশের সার্বিক ও প্রকৃত অগ্রগতি কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।