‘দিল্লি পুলিশের মতো আচরণ বন্ধ করুন’! নিজেরই নিরাপত্তা রক্ষীকে বাড়ি থেকে বের করে দিলেন নেতা

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে তাঁর নিজের বাসভবনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) বিরুদ্ধে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। তাঁর সরাসরি দাবি, ওই পুলিশ কর্মী পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বাধা দিচ্ছেন এবং ঘরের অন্দরে এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি করেছেন। নেতার বাসভবনে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে ওই পুলিশকর্মীর অশোভন আচরণ এবং বাড়ির ভেতরে ঢোকার ক্ষেত্রে কড়াকড়ির অভিযোগে রাজনৈতিক আঙিনায় শোরগোল শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, হুমকির মুখে এবং বাড়িতে অতিরিক্ত জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের জন্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিজিৎ দিপকেকে সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নিরাপত্তাই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি নেতার। শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েকটি ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, সিজেপি প্রধান এক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে কথা বলছেন এবং এসআই-কে অবিলম্বে নিরাপত্তা দল থেকে অপসারণের জোরালো দাবি জানাচ্ছেন।

ভিডিওর ফুটেজে অভিজিৎ দিপকেকে সরাসরি ওই পুলিশকর্মীর উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগরে দিতে শোনা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি যখন লোকজনকে ভেতরে আসার অনুমতি দিচ্ছি, তখন আপনাদের সমস্যা কোথায়? আপনারা কেন দিল্লি পুলিশের মতো আচরণ করছেন? আজ পর্যন্ত তো এমন কোনো সমস্যা হয়নি। আমি আপনাকে প্রথমবার দেখছি, কার সঙ্গে দেখা করব আর কার সঙ্গে করব না—তা কি আপনারা ঠিক করে দেবেন?” এরপর ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ওই এসআইকে তাঁর বাড়ি থেকে অবিলম্বে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে তাঁকে আর নিরাপত্তার দায়িত্বে চাই না।

তদন্তে নতুন মোড় এনে দিপকে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, এক সাংবাদিক তাঁকে জানিয়েছেন যে তাঁর বাড়ির আশপাশে সাদা পোশাকে কিছু সিআইডি কর্মী সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছেন। পুলিশ যখন সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন নাকি তাঁরা নিজেদের সিআইডি আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। শুধু তাই নয়, সিআইডি-র এক কর্মীর ফোনের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে যার নাম ‘হিট স্প্রে’ (Hit Spray)। নেতার অভিযোগ, এই বিশেষ গ্রুপের মাধ্যমেই তাঁর বাড়ির চারপাশের সমস্ত গোপনীয় তথ্য ও গতিবিধির রিপোর্ট বাইরে পাঠানো হচ্ছিল।

এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ও স্পর্শকাতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে। তবে এই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন কিংবা সংশ্লিষ্ট ডিসিপি পঙ্কজ অতুলকর এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। নেতার এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে এবং গোটা বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে উচ্চপর্যায়ের গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।