হাতে ৩৩৬ সাংসদের সমর্থন! সংসদের বিশেষ অধিবেশনে কীসের প্রস্তুতি শুরু মোদীর?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রয়েছে যে, কেন্দ্রের অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা পরিশীলন বিল লোকসভায় নিরাপদে ও সহজে পাশ করানোর জন্য এনডিএ জোটের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যাগরীষ্ঠতা ও প্রয়োজনীয় সমর্থন রয়েছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলগুলির লাগাতার বিরোধ ও অচলাবস্থার কারণে যদি এই গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি চলতি অধিবেশনে পেশ করা সম্ভব না হয়, তবে এই মাসের মধ্যেই সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে এই বিলগুলি আইন হিসেবে পাশ করানো হবে। পাশাপাশি, সূত্র মারফত এও জানা গেছে যে এই মুহূর্তে সরকারের সঙ্গে মোট ৩৬৬ জন লোকসভার সাংসদের শক্ত সমর্থন রয়েছে।
গত শুক্রবার এনডিএ জোটের সংসদ সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ প্রাতঃরাশ বৈঠকের সময় এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। কারণ সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্ম সুচারুভাবে চালিত করার জন্য বিরোধী পক্ষগুলির সঙ্গে সমস্ত ধরনের অচলাবস্থা কাটানোর উদ্দেশ্যে কেন্দ্র সরকার আগে থেকেই সচেষ্ট রয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত সূত্রগুলি জানিয়েছে যে, উক্ত বিশেষ বৈঠকে দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও সহজে পৌঁছে যাওয়া এবং এনডিএ জোটকে রাজনৈতিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী করে তোলার মতো বিভিন্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ডিলিমিটেশন বা পরিধি বাড়ানোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের পক্ষে যথেষ্ট সংখ্যাধিক্য রয়েছে।
যদি প্রস্তাবিত এই ঐতিহাসিক আইনটি বর্তমান রুটিন অধিবেশনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেশ করা সম্ভব না হয়, তবে সরকার বিল দুটিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চলতি মাসের শেষভাগে একটি বিশেষ অধিবেশন ডাকার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত সমস্ত সাংসদদের এই মর্মে পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে পরিসীমানা নির্ধারণের এই জটিল প্রক্রিয়া চলাকালীন তাঁদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার স্বার্থ ও সুরক্ষা পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্ভূত ছাত্র বিক্ষোভ ও তরুণদের ক্ষোভের দিকটি মাথায় রেখে, প্রধানমন্ত্রী সমস্ত এনডিএ সাংসদদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে তারা যেন দেশের তরুণ সমাজ, বিশেষ করে ‘জেন-জি’ (Gen Z) প্রজন্মের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখেন।
সাংসদদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে যে, তারা যেন সরাসরি যুবসমাজের সঙ্গে জনসংযোগ বাড়িয়ে সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও সাফল্যের বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দেন। তরুণ ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত দ্বিমুখী আলাপচারিতা বজায় রাখতে এবং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সরকারের প্রতি তাদের মনে জমা হওয়া যেকোনো ধরনের আশঙ্কা বা অসন্তোষ দূর করার ওপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা শিবিরের সাংসদদের নানা উদ্বেগের বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দলগত সমস্ত সিদ্ধান্তই সম্পূর্ণরূপে সাংবিধানিক কাঠামোর গণ্ডীর ভেতরে থেকেই নেওয়া হয়েছে।