রক্ত দিলেই পকেটে ক্যাশ আর কমিশন! দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালের বিরুদ্ধে মারাত্মক কারসাজির অভিযোগ

স্কুলপড়ুয়াদের টাকার লোভ দেখিয়ে জোর করে বা প্রলোভন দিয়ে রক্তদান করানোর এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ সামনে এসেছে দুর্গাপুর থেকে। অভিযোগ উঠেছে, মাত্র ৩০০ টাকার লোভ দেখিয়ে ১২ থেকে ১৩ বছরের অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়াদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্তদান করানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, অন্য কোনো পড়ুয়াকে ধরে আনতে পারলে মিলত অতিরিক্ত কমিশনও। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরই দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। পুরো ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং কড়া শাস্তির বার্তা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের তিন নাবালক পড়ুয়াকে আর্থিকভাবে প্রলুব্ধ করে স্থানীয় মিশন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়মের তোয়াক্কা না করে তাদের শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের হাতে রক্তদানের সার্টিফিকেটও তুলে দেওয়া হয়। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে স্কুলেরই এক প্রাক্তন ছাত্রের নাম উঠে এসেছে। এক অভিভাবক জানিয়েছেন, তিনি ছেলের স্কুল ব্যাগ চেক করার সময় মিশন হাসপাতালের ব্লাড ডোনেশনের সার্টিফিকেট দেখতে পান। সার্টিফিকেটে বয়স ১৮ বা তার বেশি লেখা থাকলেও ওই ছাত্রের বয়স এখনও আঠারো হয়নি, আগামী অক্টোবরে সে আঠারো বছরে পা দেবে। অভিযুক্তরা ওই শিশুদের নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে এবং আবেগপ্রবণ করে এই কাজে ব্যবহার করেছিল বলে অভিযোগ।
এই চাঞ্চল্যকর বিষয়ে মিশন হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার পার্থ পাল জানিয়েছেন, তাদের কাছে যে সমস্ত নথি জমা পড়েছে তাতে দুই জনের বয়স ১৮ ও ১৯ বছর লেখা ছিল, যার ফলে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বয়স হয়তো ১৬ বা ১৭ বছর হতে পারে, কিন্তু ১২ বা ১৩ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনার জন্য আধার কার্ডের কঠোর ভেরিফিকেশন করা উচিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং যারা এর সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষা এবং এই চক্রের পেছনের আসল মাথাদের খুঁজে বের করতে পুলিশ এখন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।