ভূকম্পন নেই তবুও কাঁপছে কুয়োর জল! গুজরাটের এই অদ্ভুত ঘটনায় হতবাক বিজ্ঞানীরাও

গুজরাটের মোরবি জেলার বিরপারদা (Virparda) গ্রামে একটি অত্যন্ত রহস্যময় কুয়োকে ঘিরে বর্তমানে দেশজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরালো দাবি, কোনো ধরনের দৃশ্যমান বাহ্যিক কারণ ছাড়াই কুয়োর ভেতরের জল নিজে থেকেই প্রবলভাবে নড়াচড়া করছে এবং ফুঁসে উঠছে। এই অস্বাভাবিক ও রোমহর্ষক দৃশ্যের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে গেছে। যার ফলে রাজ্যের দূরদূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ প্রতিদিন ঘটনাস্থলে ভিড় জমাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর মাত্র দু’দিন আগেও ঠিক একই ধরনের অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল। যদিও কিছু সময়ের জন্য সেই জলের নড়াচড়া অলৌকিকভাবে থেমে গিয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ৩টে নাগাদ কুয়োর জল ফের তীব্রবেগে দুলতে শুরু করে। এরপর থেকেই গোটা গ্রামীণ এলাকায় এক রহস্যময় আতঙ্ক এবং ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক কী কারণে এমন ঘটনা ঘটছে, তার কোনো বৈজ্ঞানিক বা নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এখনও পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়।

এলাকাবাসীর একটি বড় অংশের অনুমান, যেহেতু মোরবি অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় অবস্থিত, তাই ভূগর্ভস্থ কোনো লুক্কায়িত ভূকম্পন বা প্রাক-ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে এই ঘটনার সরাসরি যোগ থাকতে পারে। তবে জেলা প্রশাসন কিংবা ভূতত্ত্ববিদদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বা সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। এই রহস্যময় কুয়োর আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে এখন বিশেষজ্ঞ দলের উচ্চপর্যায়ের তদন্তের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক মত অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই গান্ধীনগরের ভূকম্পন গবেষণা ইনস্টিটিউট (ISR)-এর সঙ্গে বিস্তারিত পরামর্শ করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছেন যে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় কোনো ধরনের সক্রিয় সিসমিক বা ভূকম্পনজনিত কার্যকলাপ কিংবা সক্রিয় ফল্ট লাইন বা চ্যুতি নেই। তা সত্ত্বেও কেন বারবার এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে, তা খুঁজে বের করতে বিজ্ঞানীরা জোরকদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ততক্ষন পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনে এই স্বয়ংক্রিয় আন্দোলনরত কুয়োর জলকে ঘিরে জল্পনা ও উৎকণ্ঠা বেড়েই চলেছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty