রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মামলায় বড় নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের! চরম অস্বস্তিতে প্রশাসন

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলায় তৎপরতা বাড়াল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট গঠিত বিশেষ মনিটরিং কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী ১৮ অগাস্ট এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ধার্য করা হয়েছে। ওই দিনই আদালতের পক্ষ থেকে রাজ্যের বর্তমান অবস্থান, বকেয়া ডিএ মেটানোর আবেদন এবং এই জটিল সমস্যার সার্বিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত বিবেচনা করা হবে।

এর আগে ডিএ সংক্রান্ত মূল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ বাবদ মোট ১১ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকার পুরোটাই রাজ্য সরকারকে মিটিয়ে দিতে হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ যত দ্রুত সম্ভব পরিশোধ করতে বলা হয়েছিল। পাশাপাশি, বাকি ৭৫ শতাংশ টাকা সরকারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে ঠিক কী উপায়ে এবং কতগুলি কিস্তির মাধ্যমে মেটানো সম্ভব, তা খতিয়ে দেখার জন্য শীর্ষ আদালতের তরফে একটি বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছিল।

সম্প্রতি সেই কমিটি আদালতে তাদের প্রাথমিক কার্যক্রমের বিবরণ পেশ করেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এখনও পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়ার প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে, বকেয়া টাকার কতটা পরিশোধ করা হয়েছে এবং বাকি অংশ কী পরিকল্পনা অনুযায়ী মেটানো হবে—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিজিটাল আকারে দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কমিটিকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ।

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই বকেয়া ডিএ পরিশোধ করা হবে। সেই মর্মে আদালতে পেশ করা স্টেটাস রিপোর্টে জানানো হয় যে, বিপুল আর্থিক বোঝার কারণে এককালীন ১০০ শতাংশ ডিএ মেটানো সম্ভব নয়। এর পরিবর্তে বকেয়া ডিএর ৮৫ শতাংশ ধাপে ধাপে মিটিয়ে দিতে চায় রাজ্য। বাকি ১৫ শতাংশ মকুব করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এই ৮৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ চার কিস্তিতে ২০২৮ সালের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম কিস্তিতে ৭ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। পরবর্তী কিস্তিগুলি ২০২৭ ও ২০২৮ সালের বিভিন্ন সময়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, যা কেন্দ্রের সঙ্গে ফারাক ঘুচিয়ে অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে।