চোখের দিকে তাকিয়েই ধরে ফেলুন মারাত্মক থাইরয়েড! সামান্য ভুল করলেই চিরতরে হারাতে পারেন দৃষ্টিশক্তি!

আমাদের শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য থাইরয়েড গ্রন্থি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের ভারসাম্য যখন কোনো কারণে নষ্ট হয়ে যায়, তখনই শরীরে নানা ধরনের জটিল রোগের উপসর্গ প্রকাশ পেতে শুরু করে। সাধারণ মানুষ সাধারণত থাইরয়েড বলতেই অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, ক্লান্তি, চুল পড়া বা মেজাজ পরিবর্তনের সমস্যাগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, থাইরয়েডের সমস্যা অত্যন্ত মারাত্মক রূপ ধারণ করলে তার সরাসরি ও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে আমাদের চোখের ওপর। অথচ অধিকাংশ মানুষই চোখের এই পরিবর্তনগুলোকে বয়সজনিত সাধারণ ক্লান্তি বা সামান্য সমস্যা ভেবে মারাত্মক ভুল করে বসেন, যা পরবর্তীকালে অন্ধত্বের মতো ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও এন্ডোক্রিনোলজির মতে, হাইপারথাইরয়েডিজম বা গ্রেভস ডিজিজের (Graves’ Disease) মতো থাইরয়েডের গুরুতর জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ‘থাইরয়েড আই ডিজিজ’ বা অবথালমোপ্যাথি দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে। এই বিশেষ শারীরিক অবস্থায় থাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত হরমোন চোখের পেছনের টিস্যু ও পেশিগুলোকে প্রদাহযুক্ত করে তোলে, যার ফলে চোখ দুটি স্বাভাবিকের তুলনায় সামনের দিকে ঠেলে বেরিয়ে আসতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি এ সময় প্রায়ই তীব্র চোখের যন্ত্রণা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত জল পড়া, আলো সহ্য করতে না পারা এবং চোখের পলক ফেলার স্বাভাবিক ক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যায় ভোগেন। অনেক সময় চোখের পেশিগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে রোগীরা চারপাশের সবকিছু ডাবল বা জোড়া দেখতে শুরু করেন, যা তাদের দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে চরমভাবে ব্যাহত করে।
এই ধরনের জটিল পরিস্থিতি এড়াতে চিকিৎসকরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। যদি কারও মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝাপসা দেখা, চোখের পাতা ফুলে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো লক্ষণ দেখা যায়, তবে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। থাইরয়েডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ওষুধ ও সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে চোখের এই মারাত্মক ক্ষতি অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। সময়মতো সচেতন না হলে এই রোগ স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে। তাই শরীরের এই নীরব ঘাতক সম্পর্কে এখনই সতর্ক হোন এবং ছোটখাটো লক্ষণগুলোকে কখনই অবহেলা করবেন না।