স্ট্রোকের হানা ঠেকান মাত্র কয়েক সেকেন্ডে! এই লক্ষণগুলি অবহেলা করলেই হতে পারে বড় বিপদ!

বর্তমান ব্যস্ত ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ একটি অত্যন্ত মারাত্মক এবং জীবনঘাতী স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ স্ট্রোকের শিকার হন এবং সঠিক সময়ে প্রাথমিক লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে না পারার কারণে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে তা স্থায়ী পক্ষাঘাত বা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের মতে, স্ট্রোক হঠাৎ করে আক্রমণ করলেও শরীর সবসময়ই এর আগে কিছু সূক্ষ্ম সংকেত বা লক্ষণ প্রকাশ করে। যদি এই প্রাথমিক লক্ষণগুলি সময়মতো চিনে নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া যায়, তবে রোগীর জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসা বিজ্ঞান একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহার করে, যাকে সংক্ষেপে ‘ফাস্ট’ বা (FAST) বলা হয়। এই নিয়মের প্রথম ধাপ হলো মুখের বা ফেসের (Face) পরিবর্তন লক্ষ করা। যদি হঠাৎ করে মুখের একপাশ ঝুলে যায়, হাসি বাঁকা হয়ে যায় বা কথা বলতে গিয়ে মুখ থেকে লালা পড়তে থাকে, তবে তা স্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপ হলো হাতের বা আর্মস (Arms) দুর্বলতা। আচমকা যদি একটি হাত বা পা অবশ হয়ে যায়, ভারী মনে হয় বা শূন্যে তুলে ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তবে অবিলম্বে সতর্ক হতে হবে। তৃতীয় ধাপ হলো কথা বলা বা স্পিচ (Speech) অস্পষ্ট হয়ে যাওয়া। রোগী হঠাৎ করেই গুছিয়ে কথা বলতে ব্যর্থ হন, উল্টোপাল্টা কথা বলেন বা অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা বোধ করেন। আর চতুর্থ ও শেষ গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সময় বা টাইম (Time), অর্থাৎ এই ধরনের লক্ষণ দেখা মাত্রই কালক্ষেপণ না করে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

এ ছাড়াও স্ট্রোকের আরও কিছু সাধারণ পূর্বলক্ষণ রয়েছে যা অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই তীব্র মাথা ব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা বা এক চোখে সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হওয়া এবং তীব্র মাথা ঘোরানো বা বমি বমি ভাব। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং ধূমপানের বদভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। একটু সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপই পারে আপনাকে ও আপনার প্রিয়জনকে এই নীরব ঘাতকের হাত থেকে নিরাপদে রাখতে।