ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শরীর কেঁপে ওঠে বা লাফিয়ে ওঠেন? অজান্তেই কোন ভয়ংকর রোগের শিকার হচ্ছেন আপনি?

ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য একটি প্রক্রিয়া। সারাদিনের ধকল ও ক্লান্তি কাটিয়ে শরীরকে চাঙ্গা করে তুলতে একটি শান্ত ও গভীর ঘুম অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সাম্প্রতিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং ঘুমের বিশারদদের একটি নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য। অনেকেই লক্ষ্য করে দেখবেন যে ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে শরীর কেঁপে ওঠা, আচমকা লাফিয়ে ওঠা বা খিল ধরার মতো সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের ভাষায় একে ‘হিপনিক জার্ক’ (Hypnic Jerk) বা স্লিপ স্টার্ট বলা হয়ে থাকে। যদিও মাঝে মাঝে এমন হওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি শারীরবৃত্তীয় ঘটনা, কিন্তু এটি যদি নিয়মিত বা অতিরিক্ত মাত্রায় ঘটতে থাকে, তবে তা কোনো বড় শারীরিক বা মানসিক সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের প্রাথমিক পর্যায়ে যখন মস্তিষ্ক সজাগ অবস্থা থেকে গভীর ঘুমের দিকে প্রবেশ করে, ঠিক সেই মুহূর্তেই পেশিগুলোর হঠাৎ অনিয়ন্ত্রিত সংকোচনের ফলে শরীর কেঁপে ওঠে। অনেক সময় মানুষ ঘুমের মধ্যে পড়ে যাওয়ার অনুভূতি পেয়ে তীব্র আতঙ্কে হঠাৎ জেগে ওঠেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, ক্যাফেইন বা অতিরিক্ত চা-কফি পানের অভ্যাস এবং শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি বা খনিজের অভাব এই ধরনের সমস্যার অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। এছাড়া অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং উদ্বেগের কারণেও মস্তিষ্কের স্নায়ুগুলো ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারে না, যার ফলে ঘুমের এই স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে।

যদি এই সমস্যাটি নিয়মিত চলতে থাকে, তবে তা কেবল আপনার ঘুমের গুণগত মানকেই নষ্ট করে না, বরং আপনার সামগ্রিক স্নায়ুতন্ত্রের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ধরনের সমস্যায় অবহেলা না করে সময়মতো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। রাতে ঘুমানোর অন্তত এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে গ্যাজেটস বা মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধ করা, শোয়ার ঘরের পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখা এবং নিয়মিত যোগব্যায়াম বা ধ্যানের মাধ্যমে মানসিক উদ্বেগ কমানোর অভ্যাস করতে হবে। যদি সমস্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, তবে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত বাঞ্ছনীয়।