মমতার সভা থেকে সরাসরি দিল্লির বৈঠকে! দলবদলের জল্পনা উসকে কোন বড় খেলায় মাতলেন রাজীব কুমার?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমারকে কেন্দ্র করে। গত কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল যে, রাজ্যের শাসক শিবিরের একাধিক হেভিওয়েট নেতা দল ছেড়ে ভিন্ন সমীকরণের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। এরই মাঝে কলকাতার রাজনীতি পেরিয়ে একেবারে দিল্লির কেন্দ্রস্থলে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে প্রাক্তন এই পুলিশ কমিশনারের উপস্থিতি সেই জল্পনাকে যেন এক ধাক্কায় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি সাধারণ প্রশাসনিক বৈঠক নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য রাজনীতির এক গভীর ও নতুন সমীকরণ।

ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগেই, যখন এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন যে তৃণমূল শিবিরের বেশ কয়েকজন সাংসদ ও নেতা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও সেদিন তিনি কারও নাম প্রকাশ করেননি, তবে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা উড়তে শুরু করেছিল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনী ফলাফলের পর কিছুদিন দৃশ্যপট থেকে উধাও থাকার পর হঠাৎ করেই মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা মিলেছিল রাজীব কুমারের। মনে করা হয়েছিল, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তিনি দলেই থেকে যাচ্ছেন। কিন্তু তার মাত্র পনেরো দিন কাটতে না কাটতেই দিল্লির সংসদ চত্বরে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিলের ডাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে হাজির হন রাজীব কুমার।

সূত্রের খবর, জলশক্তি মন্ত্রীর ওই বৈঠকে বাংলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ ও পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠকে রাজ্যের তরফে পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার উপস্থিত থাকলেও, সবার নজর কেড়ে নেয় রাজীব কুমارهর উপস্থিতি। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠকের পাশাপাশি এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে রাজীব কুমারের একান্ত আলোচনা ও পাশাপাশি বসার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে আসতেই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে জল্পনা। যদিও কাকলি দেবী নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে ছবি পোস্ট করে সাফাই দিয়েছেন যে, ঘরে ঘরে পাইপলাইনে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছনোর কাজ দ্রুত সম্পূর্ণ করার দাবি নিয়েই মূলত এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে কেবল জল সরবরাহ বা উন্নয়নমূলক আলোচনা নয়, বরং এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক বার্তা। নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর যেভাবে একের পর এক তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী ও সাংসদরা দিল্লির বিভিন্ন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দরবারে ভিড় জমাচ্ছেন এবং প্রশাসনিক বৈঠকের অজুহাতে ঘরোয়া আলোচনা সারছেন, তা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছে বিরোধীরাও। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রাজ্যের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে দেশজুড়ে এবং এ রাজ্যে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, তাতে শামিল হওয়ার জন্য অনেকেই এখন মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু এই দলবদলের বা যোগাযোগের সময়টা অত্যন্ত অদ্ভুত। বিগত দিনে এই রাজ্যের কোনো শাসক দলের নেতার দিল্লির দরবারে যাওয়ার কথা মনে হয়নি, কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত পেলেই সবাই লাইন দিতে শুরু করেছেন।’’ সবমিলিয়ে, রাজীব কুমারের এই দিল্লি সফর এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে গোপন বৈঠক ঘিরে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।