ফি বছর বর্ষায় জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে ব্রিজ! স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নদীপারের সাধারণ মানুষ

গত ২৪ ঘণ্টার টানা প্রবল বর্ষণে গন্ধেশ্বরী নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করায় জলের তলায় চলে গেছে বাঁকুড়ার গুরুত্বপূর্ণ মানকানালী সেতু। এর জেরে নদীর এপার ও ওপারের একাধিক গ্রামীণ এলাকার সঙ্গে বাঁকুড়া সদর শহরের সরাসরি যোগাযোগ কার্যত সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বর্ষার আগমন ঘটলেই এই অঞ্চলের মানুষকে প্রতি বছর একই ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। অথচ দীর্ঘকাল ধরে এই বারবার ঘটে চলা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলেই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে বিগত তৃণমূল সরকারের কার্যকালে এলাকার তৎকালীন সাংসদসহ প্রশাসনের একাধিক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এই নদীর উপর একটি নতুন ও মজবুত সেতু নির্মাণের ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগী হয়েছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সেই কাজ আজও প্রাথমিক স্তরেই আটকে রয়েছে এবং কাজের কাজ কার্যত কিছুই হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলেও গন্ধেশ্বরী নদীর উপর নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে একাধিকবার উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছে, তবে কাজের গতি অত্যন্ত শ্লথ থাকায় শেষমেশ এর ফলাফল কী দাঁড়াবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। প্রতি বছর বর্ষার মরসুমে যোগাযোগের মাধ্যম এই সেতুটি জলের নিচে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন চরমভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এলাকাবাসীর স্পষ্ট দাবি, বারবার নদীর জলে সাঁকো বা নিচু সেতু ডুবে যাওয়ার এই স্থায়ী সমস্যার চিরতরে অবসান ঘটাতে হবে। অবিলম্বে গন্ধেশ্বরী নদীর উপর অনেক উঁচুতে একটি মজবুত ও আধুনিক কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা হোক। তাহলেই বর্ষার দিনে নদীর জল বাড়লেও নদীপারের গ্রামগুলির সঙ্গে শহরের যোগাযোগ স্বাভাবিক থাকবে এবং প্রতি বছরের এই অভিশপ্ত দুর্ভোগ ও যাতায়াতের সঙ্কট থেকে মুক্তি পাবেন সাধারণ মানুষ।