স্মার্টফোনের যুগেও বাজিমাত! প্রবীণদের কথা মাথায় রেখে অবিশ্বাস্য দামে দুর্দান্ত ফিচার ফোন আনল আইটেল

স্মার্টফোনের রমরমা বাজারে প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন ডিভাইস লঞ্চ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ ফিচার ফোনের চাহিদা কিছুটা হলেও নিম্নমুখী। তবে প্রবীণ নাগরিক কিংবা যাঁরা কেবল কথা বলা এবং সাধারণ কাজের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য হ্যান্ডসেট খোঁজেন, তাঁদের কাছে এখনও ফিচার ফোনের কদর বিন্দুমাত্র কমেনি। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে একটি নতুন ফিচার ফোন বাজারে নিয়ে এল জনপ্রিয় প্রযুক্তি ব্র্যান্ড আইটেল (Itel)। সংস্থার সদ্য উন্মোচিত এই নতুন মডেলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইটেল এস ৩ হীরা’ (Itel Ace 3 Heera)। যা মূলত অত্যন্ত কম খরচে প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ডিজাইন ও কালার অপশনের দিক থেকে এই ফোনটি বাজারে বেশ নজর কেড়েছে। আইটেল এস ৩ হীরা মডেলটি মোট তিনটি আকর্ষণীয় রঙে উপলব্ধ করা হয়েছে। ডিভাইসটিতে দেওয়া হয়েছে ১.৮ ইঞ্চির একটি স্পষ্ট ডিসপ্লে প্যানেল। এছাড়া আধুনিক যুগের চাহিদা মেটাতে এতে যুক্ত করা হয়েছে ১,০০০ এমএএইচ ক্ষমতার শক্তিশালী ব্যাটারি, আধুনিক ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট, ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, অটোমেটিক কল রেকর্ডিং ফিচার এবং ওয়্যারলেস এফএম রেডিও। বাজারে উপলব্ধ নকিয়া (Nokia) এবং লাভা (Lava)-র মতো অন্যান্য নামী ব্র্যান্ডগুলির ফিচার ফোনকে এই মডেলটি তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ফেলবে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় বাজারে এই নতুন ফিচার ফোনটির দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৯৪৯ টাকা। কালো, নীল এবং পার্পেল—এই তিনটি ভিন্ন রঙে ফোনটি কেনা যাবে। দেশের সমস্ত প্রধান রিটেল স্টোরগুলিতে ফোনটির বিক্রি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। গ্রাহকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ব্র্যান্ডের পক্ষ থেকে এই ফোনে এক বছরের ওয়ারেন্টি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ডিভাইসে উৎপাদনের কোনো ত্রুটি বা সমস্যা থাকলে কাউন্টার রিপ্লেসমেন্ট বা বদলের সুবিধা পাওয়ার সুযোগও রাখছে সংস্থাটি। উল্লেখ্য, এই নতুন মডেলটি তাদেরই জনপ্রিয় পূর্বসূরী ‘আইটেল এস ২ হীরা’ (Itel Ace 2 Heera)-র উত্তরসূরী হিসেবে বাজারে এল, যার পূর্ববর্তী মূল্য ছিল ১,১০৯ টাকা।

ফিচারের দিক থেকেও এই হ্যান্ডসেটটি বেশ সমৃদ্ধ। আইটেল এস ৩ হীরা মডেলে ১.৮ ইঞ্চির স্ক্রিনের পাশাপাশি রয়েছে এআই-চালিত (AI-powered) ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এই ফোনটিতে ৯.৬৪ ঘণ্টার দীর্ঘ টকটাইম এবং প্রায় ১৭৭ ঘণ্টার স্ট্যান্ডবাই টাইম পাওয়া যাবে। ব্যাটারি কম থাকলে সুপার ব্যাটারি মোড অন করে আরও দীর্ঘক্ষণ ফোনটি সচল রাখা সম্ভব। কানেক্টিভিটির জন্য এতে রয়েছে ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ও ব্লুটুথ। এছাড়াও মাইক্রোএসডি কার্ডের মাধ্যমে এর স্টোরেজ ৩২ জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যাবে। ফোনটিতে অটোমেটিক কল রেকর্ডিং, রেকর্ডিং সুবিধাসহ এফএম রেডিও এবং একসঙ্গে ৫০০টি কন্টাক্ট ও ২৫০টি মেসেজ সংরক্ষণ করার সুবিধা রয়েছে। সবশেষে, বিশেষ ফিচার হিসেবে এতে ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্টের পাশাপাশি প্রায় ১০টি আঞ্চলিক ভাষায় ফোনটি পরিচালনা করার সুবিধা রাখা হয়েছে।