চা ও বস্ত্র শিল্পের উন্নয়নে মিলবে কেন্দ্রের বড় সাহায্য! ২৪ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে রাজ্যে আসছেন অর্থমন্ত্রী

রাজ্যে শিল্পায়নের গতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং ঐতিহ্যবাহী কুটির ও বস্ত্র শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবার সরাসরি কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগের ইঙ্গিত মিলল। কলকাতার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত জমজমাট কলকাতা টেক্সটাইল কনক্লেভ এবং কউচার এক্সপোর উদ্বোধনী মঞ্চে যোগ দিয়ে রাজ্যের শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক সুদূরপ্রসারী রোডম্যাপ তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিশেষ অনুষ্ঠান থেকেই তিনি রাজ্যের ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ খবর ঘোষণা করে জানান যে, চলতি মাসের শেষেই রাজ্য সফরে আসছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। কেন্দ্রীয় স্তরে বাংলার ঐতিহ্যবাহী চা এবং বস্ত্র শিল্প নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিকাঠামোকে নতুন দিশা দেখাবে।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জানান যে, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে তাঁর একান্ত বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকেই মূলত বাংলার দুটি ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র—চা শিল্প এবং বস্ত্র শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নিজে বাংলার চা বাগান ও চা শ্রমিকদের কল্যাণের পাশাপাশি বিশেষ করে নদীয়া, ফুলিয়া এবং শান্তিপুরের বিশ্বখ্যাত তাঁত শিল্পের মানোন্নয়নের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আগামী ২৪ থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে নির্মলা সীতারমণের রাজ্য সফরে আসার কথা রয়েছে। সেই সফরে রাজ্যের বিশিষ্ট বস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর একটি বিশেষ বৈঠকের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সরাসরি কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই শিল্পের প্রসারে সমস্ত রকম আর্থিক ও নীতিগত সহযোগিতা পেতে পারেন।
রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশ এবং বিনিয়োগের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান যে, শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত করতে সরকার ইতোমধ্যে লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে লগ্নিকারীদের উৎসাহিত করতে মাত্র এক মাসের মধ্যেই অন্তত ২৫ জন বিশিষ্ট শিল্পপতির হাতে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ ও বণ্টন নীতিতেও আমূল পরিবর্তন এনে প্রক্রিয়াটি আরও অনেক বেশি সহজ করে তোলা হয়েছে। মিলনমেলা প্রাঙ্গণের এই বস্ত্র মেলায় প্রায় ২০০টি স্টল রয়েছে এবং এখান থেকে প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকার বিশাল ব্যবসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সুরাট বা দেশের অন্যান্য প্রান্তের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলার বস্ত্র শিল্পকে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকার সবরকমভাবে ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।