রাজনীতিতে আসার গুঞ্জনের মাঝেই ভাষা বিতর্কে ঝড় তুললেন ধনুষ! মাতৃভাষা নিয়ে দিলেন বিস্ফোরক মন্তব্য!

‘থলপতি’ বিজয়ের অভাবনীয় রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের পর থেকেই দক্ষিণী সুপারস্টার ধনুষের রাজনীতিতে পদার্পণ করা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে। আর ঠিক এই অত্যন্ত সংবেদনশীল আবহেই তামিলনাড়ুর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ভাষা বিতর্ক নতুন করে উস্কে দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ধনুষ। চেন্নাইয়ের একটি স্কুল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি সোজাসাপ্টা ভাষায় নিজের মাতৃভাষার উপর বিশেষ জোর দেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছেন। ধনুষের দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য, নিজের মাতৃভাষা না জানা বা বলতে না পারা কোনো গর্বের বিষয় নয়, বরং তা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং অপমানজনক।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় তৃতীয় ভাষা শেখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে দক্ষিণের রাজ্যগুলি থেকে প্রথম থেকেই তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা উঠে আসছে। বিরোধী শিবির ও আঞ্চলিক দলগুলির জোরালো অভিযোগ, মাতৃভাষা এবং ইংরেজির পাশাপাশি বলপূর্বক হিন্দি ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার সুদূরপ্রসারী উদ্দেশ্য নিয়েই এই শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই বহুমুখী বিতর্কের জল যখন বহুদূর গড়িয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দাঁড়িয়েই অভিনেতা ধনুষের এই মন্তব্য বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দান করেছে। মঙ্গলবার নিজে ছোটবেলায় চেন্নাইয়ের যে নামী ‘তাই ম্যাট্রিকুলেশন স্কুলে’ পড়াশোনা করেছিলেন, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যোগ দেন ধনুষ। পড়ুয়াদের উদ্দেশে অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা করতে গিয়ে তিনি সাফ জানান যে, তামিল না জানা এবং মাতৃভাষায় দুর্বল হওয়া কোনোভাবেই আধুনিকতার লক্ষণ নয়।

ওই অনুষ্ঠানে নিজের ফেলে আসা দিনের স্মৃতিচারণ করে ধনুষ বলেন, “আমরা যখন এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতাম, সেই সময়ে আমরা খুব একটা ভালো ইংরেজি বলতে পারতাম না। অনেক সময় ব্যাকরণ ভুল করে ইংরেজি বলতাম। কিন্তু আমরা আমাদের মাতৃভাষা তামিল খুব ভালোভাবেই জানতাম।” বর্তমান প্রজন্মের অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে এখন সমাজের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আজকের দিনে মানুষ অনর্গল ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারে, অথচ বহু তরুণ-তরুণী ঠিকমতো নিজের মাতৃভাষা তামিল পড়তে বা লিখতে পারে না, যা অত্যন্ত হতাশাজনক ব্যাপার। পড়ুয়াদের সম্পূর্ণ সচেতন করার উদ্দেশ্যে ধনুষ তাঁর আন্তর্জাতিক শুটিংয়ের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন। তিনি জানান যে কিছুদিন আগে একটি ফরাসি প্রযোজনা সংস্থার অধীনে কাজ করার সময় বেলজিয়ামে শুটিং চলছি। সেই সময় তিনি ফরাসি কলাকুশলীদের কাছে ইংরেজি বলতে পারার বিষয়টি ফলাও করে বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিদেশি সেই কলাকুশলীরা তাঁর কথায় দারুণ অবাক হয়ে যান এবং পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন যে নিজের মাতৃভাষা নিখুঁতভাবে জানাটাই সবচেয়ে বেশি জরুরি, আর ইংরেজি ভাষা শিক্ষা বড়জোর একটা অতিরিক্ত বোনাস মাত্র।

নিজের জোরালো বক্তব্যে ধনুষ আরও স্পষ্ট করে বলেন যে মাতৃভাষা সঠিকভাবে পড়া এবং লেখা প্রতিটি ছাত্রছাত্রীর জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি মৌলিক বিষয়। যারা গর্ব করে বলে বেড়ায় যে তারা তামিল ভাষা জানে না, তাদের সেই মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে অভিনেতা বলেন যে মাতৃভাষা না জানা কোনো কুল বা স্মার্ট ব্যাপার নয়, বরং তা অত্যন্ত অসম্মানজনক। উল্লেখ্য, এদিন ওই বিদ্যালয় চত্বরে ধনুষের নিজের হাতে গড়া ও অনুদানে তৈরি একটি অত্যাধুনিক তিনতলা ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়, যেটির নামকরণও সম্মান জানিয়ে অভিনেতার নামানুসারে ‘ধনুষ ব্লক’ রাখা হয়েছে। তবে স্কুল ভবনের উদ্বোধনের চেয়েও তাঁর এই ভাষাগত ও রাজনৈতিক ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের জোরালো ধারণা, এই ভাষা বিতর্ককে হাতিয়ার করে অভিনেতা খুব শীঘ্রই তামিলনাড়ুর সক্রিয় রাজ্য রাজনীতিতে পা রাখার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।