নাবালিকাকে ঢাল করে দেশবিরোধী স্লোগান! নিট প্রশ্নফাঁস আন্দোলন নিয়ে যন্তর মন্তরের ঘটনায় বিস্ফোরক মোড়!

নিট পরীক্ষার (NEET Paper Leak) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে এবার এক অত্যন্ত গুরুতর ও বড়সড় আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত ২০ জুলাই আয়োজিত ওই প্রতিবাদ বিক্ষোভের মূল উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন এবং নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক অত্যন্ত কড়া ধারায় জিরো এফআইআর (Zero FIR) রুজু করার দাবিতে পুলিশে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রতিবাদ কর্মসূচির নামে সেখানে এক ১২ বছর বয়সী নাবালিকাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়িয়ে অত্যন্ত বিতর্কিত পরিস্থিতি তৈরি করা এবং সুপরিকল্পিতভাবে দেশবিরোধী পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আর এই আচমকা আইনি পদক্ষেপে দেশের আইনি আইনজীবী মহল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির বিশিষ্ট আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজিপি (CJP)-র ব্যানারে আয়োজিত সেই বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রধান দুই আয়োজক সৌরভ দাস ও অভিজিৎ দিপকে এবং তাঁদের একাধিক অজ্ঞাতপরিচয় সঙ্গীদের বিরুদ্ধেই এই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের মূল ভিত্তি হলো, গত ২০ জুলাই নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুর প্রতিবাদে আয়োজিত ওই সমাবেশ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছিল। কেবল তা-ই নয়, এই আন্দোলনের আড়ালে সেখানে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সার্বভৌম ভারতের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত আপত্তিকর, অবমাননাকর ও অসংবেদনশীল মন্তব্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন ওই বিশিষ্ট আইনজীবী।
আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সিং অত্যন্ত জোরালোভাবে প্রশ্ন তুলেছেন যে, একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর, অস্থিতিশীল ও উস্কানিমূলক রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচির ঠিক মাঝে ১২ বছর বয়সী একটি কোমলমতি শিশুকে কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে টেনে আনা হলো? তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য অনুযায়ী, আইনগতভাবে এই বয়সের যেকোনো শিশু সম্পূর্ণভাবে বিশেষ যত্ন, আইনি সুরক্ষা এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়ে (Child in Need of Care and Protection)। অভিযোগে আরও বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে যে, ওই প্রতিবাদের পরই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে সদিচ্ছা দেখিয়ে তাঁর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে একটি লাইভ ভিডিওতে জানান যে, ওই তরুণ প্রজন্মের করা আবেগমূলক মন্তব্যকে তিনি বড় করে দেখছেন না এবং তাঁদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন না। কিন্তু অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর এই মহানুভবতার পরেই আয়োজকরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরও একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ করে মিথ্যা দাবি করে যে, পুলিশ নাকি সেই ১২ বছরের এক নাবালিকাকে বেধড়ক লাঠিচার্জ করেছে এবং তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন আচরণ করেছে।
আইনজীবীর স্পষ্ট এবং দ্ব্যর্থহীন দাবি, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে, জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তথা পুলিশের ভাবমূর্তি পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করতেই ওই ছোট শিশুকে সামনে রেখে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন আয়োজকরা। আর ঠিক এই কারণেই পকসো আইনের ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৫৩ ধারায় জিরো এফআইআর দায়ের করার কড়া আবেদন জানানো হয়েছে। শুধু শিশুদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগই নয়, যন্তর মন্তরের এই হাই-প্রোফাইল প্রতিবাদের নেপথ্যে থাকা বিপুল পরিমাণ আর্থিক জোগানের উৎস নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী রিঙ্কি প্রকাশ্যেই প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জানতে চেয়েছেন যে, এই বিপুল আর্থিক ব্যয়বহুল আন্দোলনের জন্য প্রতিদিন এত টাকা কোথা থেকে আসছে এবং পর্দার আড়ালে কারা এর পেছনে সুতো নাড়ছে? তিনি সরাসরি অভিযোগ এনেছেন যে, ভারতের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকারকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণভাবে বিপদে ফেলতে এক বিশাল ‘ডিপ স্টেট’ (Deep State) গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে। এই সমস্ত দিকগুলো নিরপেক্ষভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখে অবিলম্বে অভিযুক্ত আয়োজকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোরালো দাবি উঠেছে।