তরুণ তেজপাল মামলায় বড় মোড়! বম্বে হাইকোর্টের রায়ে বড় ধাক্কা খেলেন প্রবীণ সাংবাদিক!

তেহেলকার প্রাক্তন সম্পাদক তরুণ তেজপালকে ধর্ষণ মামলায় বৃহস্পতিবার বম্বে হাইকোর্ট দোষী সাব্যস্ত করেছে। এর আগে ২০২১ সালে ট্রায়াল কোর্ট তেজপালকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল, কিন্তু বম্বে হাইকোর্ট সেই রায় সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়েছে। মূলত ট্রায়াল কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গোয়া সরকারের করা আপিলের ভিত্তিতেই এই রায় দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি নীলা গোখলে এবং বিচারপতি অমিত জামসান্দেকরের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ উভয় পক্ষের বিস্তারিত এবং দীর্ঘ যুক্তি শোনার পরই এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করে।

২০১৭ সালে মাপুসার ট্রায়াল কোর্টে এই আলোচিত মামলার বিচার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল এবং ২০২১ সালে তেজপাল বেকসুর খালাস পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার অবিলম্বে হাইকোর্টে আপিল করে। মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেন ভারতের বিশিষ্ট সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। অন্যদিকে, অভিযুক্ত তরুণ তেজপালের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী আবদ পন্ডা। উল্লেখ্য, এই হাই-প্রোফাইল মামলাটি এক প্রাক্তন সহকর্মীর করা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের উপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগকারীর মূল দাবি ছিল যে, ২০১৩ সালের নভেম্বরে গোয়ায় আয়োজিত সুপরিচিত ‘থিংকফেস্ট’ (ThinkFest) অনুষ্ঠানের সময় একটি হোটেলের লিফটের ভেতরে প্রবীণ এই সাংবাদিক তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন।

রাজ্য সরকারের আপিলের শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যুক্তি দেন যে, সেশনস কোর্ট রায় দেওয়ার সময় একটি অত্যন্ত গুরুতর এবং মৌলিক ভুল করেছিল। আদালত অভিযোগকারী নারীর আচরণ বিচার করেছিল যৌন হেনস্থার শিকার হওয়া কোনো ব্যক্তির ‘কেমন আচরণ করা উচিত’—সেই সংক্রান্ত সমাজের পূর্বনির্ধারিত ধারণার উপর ভিত্তি করে। এর আগে খালাস দেওয়ার আদেশে বিচারিক আদালত প্রধানত এই যুক্তি দেখিয়েছিল যে, অভিযোগকারী এমন কোনো স্বাভাবিক আচরণ প্রদর্শন করেননি, যা সাধারণত একজন যৌন হেনস্থার শিকার ব্যক্তি করে থাকেন। এর জবাবে সলিসিটর জেনারেল জোরালোভাবে আদালতকে জানান যে, কোনো ভুক্তভোগীর প্রতিক্রিয়ার কোনো নির্দিষ্ট বা সর্বজনীন মানদণ্ড থাকতে পারে না। কারণ শিক্ষা, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক পটভূমি এবং আকস্মিক পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে একেকটি মানুষের মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। দুই পক্ষের আইনি লড়াইয়ের পর বম্বে হাইকোর্টের এই নতুন রায় দেশের আইন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।