হোয়াটসঅ্যাপ খুললেই চাইছে জন্মতারিখ! ভারতের নতুন আইনের ভয়ে বড় বদল আনছে মেটা, জানুন কারণ

মোবাইল খুলেই এবার ব্যবহারকারীদের সামনে আসছে এক নতুন চমক। মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) এবার ব্যবহারকারীদের কাছে তাঁদের সঠিক বয়স জানতে চাইছে। সম্প্রতি অনেক ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন, যেখানে তাঁদের জন্মতারিখ বা বয়স ইনপুট করার প্রম্পট দেখাচ্ছে। এই হঠাৎ পদক্ষেপে প্রযুক্তিপ্রেমী মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

কেন হঠাৎ এই পদক্ষেপ করছে হোয়াটসঅ্যাপ? প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতে খুব শীঘ্রই পুরোপুরি কার্যকর হতে চলা কঠোর ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (DPDP Act) এবং শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনি বাধ্যবাধকতার কথা মাথায় রেখেই মেটা এই প্রস্তুতি শুরু করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া প্রম্পটগুলিতে স্পষ্ট লেখা রয়েছে— “ভারতে যে আইন আসছে, সেই আইন অনুযায়ী আমাদের আপনার বয়স জানতে হবে।” এই প্রসঙ্গে সর্বভারতীয় এক সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হোয়াটসঅ্যাপের এক মুখপাত্র বলেন, “ভারতের ডিজিটাল ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন (DPDP)-এর মতো আসন্ন আইনগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আমরা ব্যবহারকারীদের বয়স নিশ্চিত করতে চাইছি। তবে এর ফলে হোয়াটসঅ্যাপের দৈনন্দিন কার্যকারিতা বা চ্যাট করার অভিজ্ঞতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।”

আইনের মারপ্যাঁচ ও বর্তমান নিয়ম: নতুন এই ডিপিডিপি (DPDP) আইনের অধীনে ১৮ বছরের কম বয়সীদের ‘শিশু’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই আইন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হলে ১৮ বছরের কম বয়সি কোনো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য প্রসেস করতে হলে প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে তাদের বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

অবশ্য হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষ থেকে আপাতত জানানো হয়েছে যে, এই বয়স যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক (Optional)। কেউ যদি এই তথ্য দিতে না চান, তবে তিনি তা এড়িয়ে যেতে পারেন। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করে মেটা জানিয়েছে, সংগৃহীত এই বয়সের তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং গোপন রাখা হবে।