ডায়াবেটিসে আম খেলে কি রক্তে শর্করা হু-হু করে বাড়ে? বিশেষজ্ঞদের আসল সত্যিটা জানলে চমকে যাবেন!

গ্রীষ্মকালের আগমনের সঙ্গে সঙ্গেই ফলের রাজার জন্য অপেক্ষা শুরু করে দেন দেশের কোটি কোটি মানুষ। পাকা আমের সুবাস, মিষ্টি স্বাদ এবং এর মনমাতানো রসালো ভাব কার না ভালো লাগে? ছোট থেকে বড়—সকলেরই পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে আম। কিন্তু এই ফলের প্রতি তীব্র ভালোবাসার মাঝেই মনে এক অদৃশ্য আতঙ্ক কাজ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ রোগীর মনে। তাঁদের মনে একটাই চিরচুন প্রশ্ন ঘুরপাক খায়—রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে কি ভুলেও ছোঁয়া যাবে না আম? আম খেলে কি সঙ্গে সঙ্গেই সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়? সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসকদের অন্দরমহলেও এই নিয়ে চলে দীর্ঘ বিতর্ক। তবে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের দীর্ঘ গবেষণা এবং সাম্প্রতিক ক্লিনিক্যাল সমীক্ষায় এই বিষয়ে এক যুগান্তকারী ও স্বস্তিদায়ক তথ্য সামনে এসেছে, যা প্রতিটি ডায়াবেটিস রোগীর মুখে হাসি ফোটাতে বাধ্য।

সাধারণভাবে চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস রোগীদের মিষ্টি এবং শর্করাযুক্ত খাবার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এই কারণে বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন যে, মিষ্টি ফলের রাজা আম খাওয়া মানেই রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বিশিষ্ট পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতামত সম্পূর্ণ আলাদা। তাঁদের মতে, ডায়াবেটিস থাকলেই যে আম খাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে সঠিক পরিমাণ এবং সঠিক খাওয়ার পদ্ধতির মধ্যে। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি, যা শরীরের সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে জাদুকরী ভূমিকা পালন করে।

তাছাড়া, আমের নিজস্ব একটি গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (Glycemic Index) বা জিআই মান রয়েছে, যা মাঝারি ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে। এর অর্থ হলো সঠিক পরিমিত পরিমাণে আম খেলে তা শরীরের রক্তে শর্করা একবারে বাড়িয়ে দেয় না। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের সবসময় কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আম খেতে হবে। একসঙ্গে অনেকগুলো আম না খেয়ে দিনে মাত্র একটি মাঝারি সাইজের আমের ফালি খাওয়া নিরাপদ। এছাড়াও, প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত খাবারের সঙ্গে আম খেলে এর শর্করা রক্তে খুব ধীরগতিতে মিশে যায়। কৃত্রিম আম রস বা জুস না খেয়ে সবসময় তাজা পাকা আম চিবিয়ে খাওয়া উচিত। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও একটু সচেতনতা বজায় রেখে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এই গরমে সুস্বাদু আমের আসল আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।