‘অভিষেকের বিরুদ্ধে ৪০০ মামলা, তবুও…!’ বিদ্রোহের ঝড়ে কালীঘাটের সভা থেকে কার ওপর মেজাজ হারালেন মমতা?

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দলবদলের উত্তেজনার মধ্যেই পালিত হল একুশে জুলাই। একদিকে কালীঘাট তৃণমূল শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মদন মিত্রদের মতো ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের পাল্টাপাল্টি সভা ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এখন চরম উত্তেজনা।

একুশের মঞ্চ থেকে এদিন শহিদ পরিবারগুলিকে প্রণাম জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এত টাকার লোভ, লাঞ্চনা, বঞ্চনার পরেও যে আপনারা আমাদের পাশে এসেছেন, তাই সকলকে প্রণাম জানাই।” পাশাপাশি, দলে ভাঙন ও দলত্যাগের জেরে কোণঠাসা পরিস্থিতিতেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই দৃঢ়ভাবে থাকার বার্তা দেন তিনি। মমতা সাফ জানান, “অভিষেকের বিরুদ্ধে ৪০০টি মামলা রয়েছে। ও তো ভয় পাচ্ছে না।”

শুভেন্দুকে কড়া আক্রমণ ও মমতার হুঙ্কার
নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর ১০ বছরের তৃণমূলের মেয়াদকাল নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, কেবল তৃণমূলের কোল খালি করা হচ্ছে। মুখ খুললে আপনি ১০ বছর তৃণমূলে থেকে কী করেছেন, মুখোশ খুলে দেব।”

অন্যদিকে, দলীয় প্রতীক হাতছাড়া হওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “প্রতীক কাড়লে, আমি ছাড়ব না। আমাদের প্রতীক কাড়তে পারে না। গায়ের জোরে করছে। আমি সুপ্রিম কোর্ট অবধি যাব।”

মদন ও অভিষেকের তরজা
অন্যদিকে, সদ্য কালীঘাট শিবির ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়া মদন মিত্র মমতাকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “আপনি হেঁটে এখানে আসুন। কেউ আপনাকে ডিম মারবে না। আমরা আমাদের গলার উত্তরীয় আপনার পায়ের কাছে রেখে দেব।”

এরই পাল্টা জবাব দিয়ে ক্যাথিড্রাল রোডের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহী শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তৃণমূল সাংসদের কটাক্ষ, পিঠ বাঁচাতে এবং নিজেদের বাঁচাতে এই নেতারা দল ছেড়ে অন্য শিবিরে ভিড়ছেন। সব মিলিয়ে, একুশে জুলাইয়ের এই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের আসন্ন রাজনৈতিক লড়াইয়ের পারদ আরও চড়ে গেল।