বজ্রপাতের সময় ভুলেও করবেন না এই মারাত্মক ভুল! ওড়িশায় বিস্ফোরণে রক্তাক্ত পোশাক ব্যবসায়ী!

বর্ষার মেঘলা আকাশ আর ঝিরঝিরে বৃষ্টির মাঝেও হাতের ফোনটি থেকে চোখ সরাতে পারেননি এক ব্যক্তি। আর সেই সামান্য ভুলেই ঘটে গেল এক মর্মান্তিক ও ভয়ংকর বিপত্তি। মঙ্গলবার বিকেলে ওড়িশার কেওনঝড় জেলার ঘাসিপুড়া থানা এলাকার সুদুসুদিয়া গ্রামে বজ্রপাতের জেরে হাতে থাকা মোবাইল ফোন ফেটে গিয়ে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন এক স্থানীয় পোশাক ব্যবসায়ী। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে দ্রুত স্থানান্তরিত করা হয়েছে স্থানীয় আনন্দপুর মহকুমা হাসপাতালে। এই অভাবনীয় দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে, সুদুসুদিয়া এলাকার একটি ফুটপাতের ধারে পোশাকের ছোট্ট দোকান চালান ওই ব্যবসায়ী ফিরোজ আলি। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলেও তিনি দোকানে বসেছিলেন। বিকেল গড়ালে আকাশ মেঘলা হয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়, কিন্তু দোকান খোলা রেখেই তিনি নিজের স্মার্টফোনে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিবরণ অনুযায়ী, সেই সময় আচমকাই বিকট শব্দে সুদুসুদিয়া বাজার এলাকায় তীব্র বজ্রপাত হয়। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই ফিরোজের হাতে ধরে থাকা মোবাইল ফোনটিতে সরাসরি বজ্রাঘাতের মতো ঘটনা ঘটে এবং সেটি বিকট শব্দে ফেটে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে আগুনের ঝলকানি ছড়িয়ে পড়ে এবং জোড়া ধাক্কায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ফিরোজ। তাঁর শরীরের একাধিক অংশে গভীর ক্ষত ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও দ্রুত সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে তড়িঘড়ি আনন্দপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়েই তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে ছুটে যান। চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। বজ্রপাতের ফলে শরীরের ভেতরে বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখছেন চিকিৎসকেরা।
বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করে বলে আসছেন যে, বর্ষার মরসুমে মেঘলা আকাশ বা বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে বা বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা কিংবা চার্জে বসানো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। বাতাসের আর্দ্রতা ও বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র অনেক সময় ফোনের দিকে বজ্রপাতকে আকৃষ্ট করে। সুদুসুদিয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনা আরও একবার সেই চরম ঝুঁকির দিকটিই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এই ঘটনার পর থেকে সমগ্র এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ওই ব্যবসায়ীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।