১০০ কোটির ইতিহাস গড়া ‘গজিনি’-র প্রথম পছন্দ ছিলেন সালমান! কেন হাতছাড়া হল মেগাস্টার?

বলিউডের ইতিহাসে এমন বহু সুপারহিট সিনেমা রয়েছে, যেগুলোর জন্য নির্মাতাদের প্রথম পছন্দ ছিলেন অন্য কোনো তারকা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ছবি অন্য অভিনেতার ঝুলিতে চলে গিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করে। ঠিক এমনই একটি অত্যন্ত চমকপ্রদ ও গোপন গল্প জড়িয়ে রয়েছে আমির খানের ব্লকবাস্টার মেগাসিড হিট ছবি ‘গজিনি’-কে ঘিরে। খুব কম মানুষই এই তথ্যটি জানেন যে, এই ছবিতে সঞ্জয় সিংহানিয়ার কেন্দ্রীয় চরিত্রটি বানানোর সময় সবার আগে সালমান খানকে অফার করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু বিশেষ পরিস্থিতি ও মতপার্থক্যের কারণে ছবিটি সলমনের হাত থেকে ফসকে যায় এবং পরবর্তীতে আমির খান সেই আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করে বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েন।

সম্প্রতি সুপারস্টার সালমান খান নিজেই এই পুরো ঘটনাটি জনসমক্ষে বর্ণনা করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন ঠিক কী কারণে তিনি ব্লকবাস্টার ‘গজিনি’-র অংশ হতে পারেননি। তিনি এই বিষয়ে তাঁর সুপ্ত ক্ষোভ ও হতাশার কথাও একেবারে খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করেছেন, যা শোনার পর থেকেই বলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। চলুন জেনে নেওয়া যাক, ঠিক কী কারণ ও নাটকীয় পরিস্থিতির জেরে সালমান খানকে এই সুপারহিট ছবি হাতছাড়া করতে হয়েছিল।

‘গজিনি’ ছবির পরিচালক এ. আর. মুরুগাদোস পরিচালিত এই সিনেমাটি মূলত একটি জনপ্রিয় তামিল ছবির অফিসিয়াল হিন্দি রিমেক ছিল। মূল তামিল সংস্করণটিতে অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াত খলনায়কের ভূমিকায় দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন এবং একই প্রযোজক তাঁকে হিন্দি সংস্করণটিতেও কাস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন। যখন পরিচালক এ. আর. মুরুগাদোস প্রদীপকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে তিনি এই ছবিটিকে হিন্দিতে সফলভাবে তৈরি করতে চান কিনা, তখন তিনি সানন্দে রাজি হয়ে যান। এই ছবির মূল কাাস্টিং নিয়ে আলোচনার সময় পরিচালক প্রদীপের কাছে জানতে চান যে, প্রধান চরিত্রে ঠিক কোন বলিউড অভিনেতাকে নেওয়া সবচেয়ে মানানসই হবে।

পরিচালক এ. আর. মুরুগাদোস অভিনেতা প্রদীপকে পরামর্শের সুরে বলেন, “আপনি তো বলিউডের প্রায় সমস্ত অভিনেতাকেই ভালোভাবে চেনেন। তাছাড়া আপনি তো সালমান খানেরও বেশ ঘনিষ্ঠ, তাহলে তাঁকে এই প্রধান চরিত্রে নিচ্ছেন না কেন?” এই প্রশ্নের উত্তরে প্রদীপ অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে জানান, “মুরুগাদোস তখন ঠিকমতো হিন্দি জানতেন না এবং তাঁর সাথে একমাত্র ইংরেজিতেই কথা বলতে হতো। অন্যদিকে সালমান খানের মেজাজ বেশ খিটখিটে এবং তাঁর সাথে কাজ করাটা বেশ কঠিন। তাই আমার মনে হয়েছিল তাঁরা দুজনে পেশাগতভাবে একসঙ্গে মানিয়ে কাজ করতে পারবেন না।”

এভাবেই ভাগ্যক্রমে ছবিটি আমির খানের কাছে চলে যায়। প্রদীপ পরে একটি সাক্ষাৎকারে জানান যে, তাঁর মতে এই জটিল চরিত্রের জন্য আমির খানই ছিলেন সবচেয়ে নিখুঁত ও সঠিক পছন্দ, কারণ তাঁর স্বভাব অত্যন্ত শান্ত, নিয়মানুবর্তী ও স্থির। তিনি আমিরকে অনুরোধ করেছিলেন একবার মূল তামিল ছবিটির মেকিং দেখতে এবং তারপর চিত্রনাট্য পছন্দ হলে তবেই সিদ্ধান্ত নিতে। কিন্তু আমির খান যখন তামিল ছবিটি দেখলেন, তখন তিনি এতটাই মুগ্ধ হন যে তিনি এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সঙ্গে সঙ্গে ছবিটি করার জন্য পাকাপাকিভাবে রাজি হয়ে যান।

উল্লেখ্য, ‘গজিনি’ ছবিতে আমির খান সঞ্জয় সিংহানিয়া নামক এক শিল্পপতির চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছিলেন, যিনি অ্যান্টেরোগ্রেড অ্যামনেশিয়া অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিভ্রংশ রোগে ভুগছিলেন। ছবিটি মুক্তি পাওয়ার পর বক্স অফিসে অভূতপূর্ব বাণিজ্যিক সাফল্য লাভ করে, অতীতে তৈরি হওয়া অসংখ্য রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেয় এবং ভারতীয় বলিউডের অ্যাকশন ঘরানার চলচ্চিত্রের জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে।