এক স্কুটারের বিরুদ্ধে ৯৬টি চালান! ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা শুনে আকাশ থেকে পড়ল পুলিশ!

হরিয়ানার গুরুগ্রামে ট্র্যাফিক নিয়ম লঙ্ঘনের এক অবিশ্বাস্য ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। ট্র্যাফিক পুলিশ একটি স্কুটার জব্দ করেছে, যেটির বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি ট্র্যাফিক চালান বকেয়া ছিল এবং যার মোট জরিমানার পরিমাণ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। নিয়মিত পরিদর্শনের সময় পুলিশ স্কুটার চালককে থামালে, তিনি গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন। এরপর গাড়িটি অবিলম্বে জব্দ করা হয় এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

ট্রাফিক পুলিশের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার গুরুগ্রামের ব্যস্ত রাজীব চকে একটি নিয়মিত যানবাহন তল্লাশি অভিযান চলছিল। তল্লাশির সময় পুলিশের একটি দল একটি সন্দেহজনক স্কুটার পরিদর্শনের জন্য থামায়। চালকের কাছে গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হলে তিনি কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি। এরপর পুলিশ অনলাইন পোর্টালে গাড়িটির রেকর্ড পরীক্ষা করে, যাতে স্কুটারটির বিরুদ্ধে বিপুল সংখ্যক বিচারাধীন ট্রাফিক চালানের তথ্য উন্মোচিত হয়। এই দৃশ্য দেখে খোদ পুলিশ কর্মকর্তারাও অবাক হয়ে যান।

তদন্তে পরিষ্কার হয়েছে যে, ১৯৮৮ সালের মোটরযান আইনের বিভিন্ন ধারায় ওই স্কুটারটির বিরুদ্ধে মোট ৯৬টি চালান বকেয়া জমেছিল। বকেয়া জরিমানার মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, একটি দুচাকা গাড়ির বিরুদ্ধে এতগুলো বকেয়া চালান থাকার ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং নজিরবিহীন। চালক দীর্ঘদিন ধরে ট্রাফিক নিয়ম লঙ্ঘন করে আসছিলেন, কিন্তু কোনো চালানই পরিশোধ করার নাম নেননি।

ঊর্ধ্বতন ট্রাফিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান যে, মোট ৯৬টি চালানের মধ্যে মাত্র একটি চালান ই-চালান মেশিনের মাধ্যমে এবং বাকি সমস্ত চালান ক্যামেরা-ভিত্তিক অত্যাধুনিক ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে জারি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, শহরজুড়ে বসানো হাই-টেক ক্যামেরাগুলো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক তীক্ষ্ণ নজর রাখে। আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির মালিকের নামে চালান জেনারেট হয়ে যায়।

ট্রাফিক পুলিশ অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, মোটরযান আইনের বিধান অনুযায়ী দীর্ঘদিনের বকেয়া চালান পরিশোধে অবহেলাকারী যানবাহন মালিকদের বিরুদ্ধে এখন আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের গুরুতর ক্ষেত্রে যানবাহন জব্দ করা সহ অন্যান্য কঠোর আইনি পদক্ষেপও গ্রহণ করা হতে পারে।

পুলিশ সকল চালককে নিয়মিতভাবে তাদের গাড়ির বকেয়া চালানগুলো অনলাইনে পরীক্ষা করে দ্রুত তা পরিশোধ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অপ্রয়োজনীয় আইনি ঝামেলা ও বিশাল অঙ্কের জরিমানা এড়ানো সম্ভব হবে।

ট্রাফিক কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন যে, রাস্তায় চলাচলের সময় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মারাত্মক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলা প্রতিটি চালকের প্রাথমিক দায়িত্ব। তারা নাগরিকদের গাড়ি চালানোর সময় সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে রাখতে এবং কঠোরভাবে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের বিশেষ পরিদর্শন ও তল্লাশি অভিযান নিরবিচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকবে এবং নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।