‘টিনাই হতাম, অঞ্জলি নয়!’ জন্মদিনে প্রকাশ্যে কাজলের সেই জেদের গল্প, যা বদলে দিয়েছিল ভারতীয় সিনেমার ইতিহাস

আজ ৫ আগস্ট, বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী অভিনেত্রী কাজল দেবগন ৫২ বছরে পা দিলেন। শুধু তাই নয়, তাঁর সুদীর্ঘ বর্ণময় চলচ্চিত্র জীবনের ৩৪ বছরও পূর্ণ হল এই বছর। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’-র ‘সিমরন’ থেকে শুরু করে ‘ফনাহ’-এর ‘জুনি’, কিংবা ‘গুপ্ত’ ও ‘মাই নেম ইজ খান’-এর মতো বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ভারতীয় দর্শকের মনে চিরকালের মতো নিজের আলাদা জায়গা পাকা করে নিয়েছেন। আর তাঁর এই বিশেষ জন্মদিনের বিশেষ মুহূর্তেই ফিরে দেখা যাক ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসের অন্যতম সর্বকালের ব্লকবাস্টার ও কালজয়ী ছবি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর পর্দার পেছনের এক রোমাঞ্চকর, টক-ঝাল এবং কৌতূহলোদ্দীপক স্মৃতি, যা আজও অজস্র সিনেপ্রেমীকে অবাক করে দেয়।
১৯৯৮ সালের ১৬ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া করণ জোহরের পরিচালনায় এই রোমান্টিক ড্রামা আজও প্রতিটি বাঙালির ও ভারতীয় দর্শকের নস্টালজিয়ার একেবারে শীর্ষে অবস্থান করছে। কিন্তু অনেকেরই হয়তো জানা নেই যে, এই ছবিতে টম বয় বা ছটফটে ‘অঞ্জলি’ চরিত্রটি করার জন্য কাজল বিন্দুমাত্র আগ্রহী ছিলেন না! বরং গ্ল্যামারাস ও অভিজাত ‘টিনা’-র চরিত্রটি রূপায়িত করার জন্য পরিচালক করণ জোহরের সঙ্গে টানা ৪৫ মিনিট ধরে তীব্র তর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। এক খোলাখুলি আলাপচারিতায় স্বয়ং কাজল নিজেই ফাঁস করেছিলেন সেই মজার ও চাঞ্চল্যকর স্মৃতি। তিনি অকপটে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’ ছবির চিত্রনাট্য পাওয়ার পর ‘টিনা’র চরিত্রের জন্য আক্ষরিক অর্থেই লড়াই করেছিলেন। করণের সঙ্গে তাঁর বেশ ভালো রকম ঝামেলা হয়েছিল, কারণ তিনি যেকোনো মূল্যে ‘টিনা’র চরিত্রটিই করতে চেয়েছিলেন। অন্যদিকে পরিচালক করণ জোহর সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তাঁকে শুধু ‘অঞ্জলি’র রোলটাই করতে হবে। কাজল তখন পাল্টা জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি শুধু টিনা-ই হতে চান এবং তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল যে তিনি ওই চরিত্রটিতে দুর্দান্ত ম্যাজিক দেখাতে পারবেন।
তবে কাজলের সেই জেদের সামনে শেষ পর্যন্ত পরিচালক করণ জোহর নিজের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ অনড় ছিলেন এবং কাজলকে রাজি করাতে বাধ্য করেছিলেন। করণ কিছুতেই অঞ্জলির চরিত্রে অন্য কাউকে দেখতে চাননি, তাঁর মনের মনিকোঠায় এই চরিত্রটি শুধুমাত্র কাজলের জন্যই নির্ধারিত ছিল। আর আজ ইতিহাস সাক্ষী যে, করণের সেই দূরদর্শী ও কঠোর সিদ্ধান্তই রুপোলি পর্দায় অমর এক ক্লাসিক সৃষ্টি করেছিল। অন্যদিকে, অত্যন্ত মজার বিষয় হলো, এই ছবির গ্ল্যামারাস ‘টিনা’ চরিত্রটি প্রথমে অফার করা হয়েছিল বিশিষ্ট অভিনেত্রী টুইঙ্কল খান্নাকে। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় এই সুযোগ চলে যায় একাধিক অন্য অভিনেত্রীর কাছে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১৯ বছর বয়সে এই আইকনিক চরিত্রের জন্য চূড়ান্ত হন নবাগত রানি মুখার্জি। রানির সেই বিশেষ ও অনন্য ‘হাস্কি’ গলার স্বরের জন্য প্রথমে করণ জোহর অন্য কাউকে দিয়ে তাঁর ডাবিং করানোর কথা গুরুত্ব সহকারে ভেবেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানি নিজের আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমে নিজেই সমস্ত সংলাপ বলে গোটা দেশবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
মাত্র ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই মাস্টারপিস ছবিটি বক্স অফিসে অবিশ্বাস্য ঝড় তুলে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯১ কোটিরও বেশি টাকার বিশাল ব্যবসা করেছিল। রাহুল (শাহরুখ খান), অঞ্জলি (কাজল) আর টিনার (রানি) এই ত্রিকোণ প্রেমের চিরন্তন আবেগ ও মন ছুঁয়ে যাওয়া গল্প আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে কাঁদায়, হাসায় এবং মুগ্ধ করে। তাই কাজলের এই বিশেষ জন্মদিনের শুভলগ্নে এই সোনালী স্মৃতির পাতা ওল্টানো মানেই যেন ফের একবার সেই নস্টালজিক ও জাদুকরী নব্বইয়ের দশকে ফিরে যাওয়া।