নেতাজিকে অপমান! বিধানসভা ভোটে হেরেও চুপ থাকলেন না মমতা, সোশ্যাল মিডিয়ায় হুঙ্কার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

ক্ষমতার পালাবদল এবং বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। শাসক দল বদলের জল্পনার মাঝে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তবে এত কিছুর পরেও দমে যাওয়ার পাত্রী নন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রাস্তায় নেমে দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় বাধ্য হয়ে তিনি এবার আধুনিক সমাজমাধ্যমকেই একমাত্র হাতিয়ার করে নিলেন। মঙ্গলবার নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে সরাসরি লাইভ করে বর্তমান রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই লাইভের মূল নিশানায় ছিল দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অসম্মান করার চক্রান্ত এবং পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে সমস্ত বিরোধী স্বর দমনের তীব্র অভিযোগ।

নেতাজিকে নানাভাবে কালিমালিপ্ত করার তীব্র অভিযোগ তুলে গেরুয়া শিবিরকে একেবারে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন তৃণমূল নেত্রী। লাইভে এসে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে বলেন, “আমি স্তম্ভিত, আমি লজ্জিত, আমি মর্মাহত, আমি শোকাহত, আমি দুঃখিত। বিজেপির কয়েকজন যারা রাজনীতির ‘র’ জানে না, যারা সংস্কৃতির ‘স’ জানে না, যারা সম্প্রীতির ‘স’ জানে না, যারা দেশটাকে চেনে না, যারা বাংলাটাকে চেনে না, তারা আজ দেশনায়ক নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর যে অসম্মান, যে অপমান করছে, তাদের একটু মনে করিয়ে দিই।” এই প্রসঙ্গেই জোরালো দাবি তুলে তিনি জানান যে, মহানায়ক নেতাজিকে নানা কৌশলে সাম্প্রদায়িক আখ্যা ও দেশদ্রোহীর তকমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। অথচ দেশের আইএনএ (INA) এবং প্ল্যানিং কমিশন তাঁরই তৈরি করা। নেতাজির সেই মহান ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, ভারতীয় সেনায় সমস্ত ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের পাহারায় নিয়োজিত থাকেন, অথচ এমন একজন সম্প্রীতির প্রতীককে নিয়ে কদর্য রাজনীতি চলছে। বিবেকবান ও শুভবুদ্ধ সম্পন্ন মানুষকে চুপ করে না থেকে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে সরব হওয়ার জোরালো আহ্বান জানান তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট ভাষায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু চিরকালই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক মূর্ত প্রতীক ছিলেন। তাই তাঁর ডান হাত হিসেবে শাহনওয়াজ খানের মতো ব্যক্তিত্ব পাশে ছিলেন। তিনি কখনও ধর্মের ভিত্তিতে বিভেদ করেননি। সমস্ত ধর্ম ও বর্ণের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি দেশ গঠনে এগিয়েছিলেন। বর্তমান প্রশাসনের দমনপীড়নের নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে তিনি জানান, ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে বিরোধীশূন্য করার যে কূটকৌশল চলছে, তা বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। সময় এসেছে সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার।