“‘চেয়ারকে কেয়ার করি না, লড়ে নেব!’-ফেসবুক লাইভে চরম হুংকার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের”

বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই দল ভাঙার হিড়িক ও চরম রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই দুঃসময়েও লড়াইয়ের ময়দান ছাড়তে নারাজ দলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ লাইভ ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিশালী বার্তা দিলেন তিনি।
মৌলিক অধিকার খর্ব করার অভিযোগ
এদিনের ভিডিও বার্তায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত জোরালোভাবে অভিযোগ করেন যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এবং তাঁর দলীয় কর্মীদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাকে রাস্তায় বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না, কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির পারমিশন দেওয়া হচ্ছে না, আমাকে কোর্টে গিয়ে পারমিশন নিতে হচ্ছে।” ভারতীয় সংবিধানের ১৪, ১৯ এবং ২১ অনুচ্ছেদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দাবি করেন, দেশের সাধারণ নাগরিকদের সমস্ত সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সরাসরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালত বা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কাঙ্ক্ষিত সুরাহা মিলছে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি আওড়ে বলেন, “বিচারের বাণী আজও নীরবে নিভৃতে কাঁদে।”
বর্তমান সরকারকে কড়া চ্যালেঞ্জ ও লড়াইয়ের হুংকার
বর্তমান প্রশাসনকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমায় আপনারা যত আটকাবার চেষ্টা করবেন, আমি আরও দ্বিগুণভাবে ঘুরে দাঁড়াব।” ক্ষমতার চেয়ার বা মন্ত্রিত্বের পদের প্রতি তাঁর যে কোনো মোহ নেই, তা স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি চেয়ারকে কেয়ার করি না, আমি মানুষকে কেয়ার করি।” সেই সঙ্গে তাঁর দ্ব্যর্থহীন হুঁশিয়ারি— “লড়ে নেব, লড়ব, গড়ব, জিতব।”
প্রশাসনের অন্দরে চলা দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলে শাসকদলের বিধায়করা বিডিও বা থানার আইসি-দের চেয়ারে গিয়ে দাদাগিরি করছেন এবং সর্বত্র টাকার বান্ডিল গোনা হচ্ছে। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত উপার্জনের পথও বন্ধ করার হীন চক্রান্ত চলছে বলে দাবি করে তিনি জানান, আজ পর্যন্ত তিনি সরকার থেকে এক পয়সাও মাইনে বা পেনশন নেননি। সম্পূর্ণভাবে নিজের লেখা বইয়ের রয়্যালটির ওপর নির্ভর করে তাঁর দিন চললেও, এ বছর সেই রয়্যালটির টাকা থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
নারী নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের অবক্ষয় নিয়ে তোপ
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং নারী সুরক্ষা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মমতা বলেন, ব্রীজভূষণ মামলা থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে মহিলারা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আড়াই বছরের শিশু থেকে শুরু করে কেউই সঠিক ন্যায়বিচার পাচ্ছে না। রাজ্যে একের পর eber নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও পুলিশি হুমকি ও বাধার কারণে নির্যাতিতাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, গোটা বাংলাটাকে আজ একটি “কারাগারে পরিণত করা হয়েছে”।
ভিডিওর শেষে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দূরদর্শী বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “সামটাইম সাইলেন্স ইজ গোল্ড। কিন্তু মনে রাখবেন কখনও কখনও সময় আসে যখন সব বাঁধ ভেঙে যায়… তখন কিন্তু নদী পথ গতিরোধ করা যায় না, নদী কিন্তু আপন পথে এগিয়ে চলে।”