‘যখন খুশি আসুন, সুরক্ষা দেওয়া আমার দায়িত্ব!’ তসলিমা নাসরীনকে অভয় দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর অবশেষে কলকাতায় ফিরেছেন নির্বাসিত বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরীন। শুক্রবার শহরের একটি উগ্রবাদ-বিরোধী সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি জনসমক্ষে আসেন। আর এই বিশেষ প্রেক্ষাপটেই শনিবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে তসলিমা নাসরীনের সম্মানে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তসলিমা নাসরীনকে মুখ্যমন্ত্রীর অভয়
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, লেখিকা যখনই পশ্চিমবঙ্গে আসবেন, তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা রাজ্য সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। তসলিমা নাসরীনকে রাজ্যে আসার আমন্ত্রণ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনি যখন খুশি, যতবার খুশি এখানে আসতে পারেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনি যখনই আসবেন, আপনাকে সুরক্ষা দেওয়া আমার দায়িত্ব।”
হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের দিন শেষ: মুখ্যমন্ত্রী
রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের জমানায় বাংলার মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। বিগত দিনের বিভিন্ন ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, হুমকি, ভীতি প্রদর্শন এবং জনগণের কণ্ঠস্বর চেপে ধরার কাল চিরতরে পার হয়ে গেছে।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কলকাতায় বসবাস করার সময় তাঁর আত্মজীবনী ‘দ্বিখণ্ডিত’ নিয়ে তীব্র আন্দোলন ও হিংসাত্মক প্রতিবাদের মুখে পড়েছিলেন তসলিমা। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলার কথা বলে তাঁকে শহর ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ পর সেই কলকাতায় ফিরে আসার মধ্য দিয়ে রাজ্যে গণতন্ত্র এবং মৌলিক অধিকারের স্বাধীন পরিবেশ ফিরে এসেছে বলেই দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠানে লেখিকার হাতে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি প্রতিকৃতি তুলে দিয়ে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকীর কথাও স্মরণ করেন তিনি।