অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেটেও দারুণ বাজিমাত! প্রতি মাসে হৃত্বিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকে কত লক্ষ টাকা?

পর্দার গ্রিক গড হিসেবে কোটি কোটি অনুরাগীর হৃদয়ে রাজত্ব করার পাশাপাশি ব্যবসার দুনিয়ায় যে তিনি অসম্ভব দূরদর্শী এবং চতুর, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন বলিউড সুপারস্টার হৃত্বিক রোশন। গত বছর নিজের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট প্রেমিকা সাবা আজাদকে ভাড়া দিয়ে গোটা বিনোদন জগতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন অভিনেতা। আর এবার তিনি যা করলেন, তা শুনলে যে কারো চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়েল এস্টেট বা সম্পত্তি বিনিয়োগে হৃত্বিক যে কতটা পোড় খাওয়া, তা তাঁর সাম্প্রতিক একটি কমার্শিয়াল প্রপার্টি ভাড়ার চুক্তি থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। মুম্বইয়ের অন্যতম অভিজাত ও প্রাইম লোকেশনে নিজের একটি সুবিশাল কমার্শিয়াল স্পেস ভাড়া দিয়ে এখন প্রতি মাসের শুরুতেই আক্ষরিক অর্থেই কড়কড়ে ১৭ লক্ষ টাকা পকেটে পুরছেন বলিউডের এই হ্যান্ডসাম হাঙ্ক!

বাণিজ্যিক সম্পত্তি বাজারের নির্ভরযোগ্য সূত্র এবং প্রখ্যাত ডেটা অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘সিআরই ম্যাট্রিক্স’ (CRE Matrix)-এর কাছ থেকে প্রাপ্ত রেজিস্ট্রেশনের সাম্প্রতিক নথি অনুযায়ী, মুম্বইয়ের অত্যন্ত ব্যস্ত এবং নামী এলাকা আন্ধেরি ওয়েস্টের নিউ লিঙ্ক রোডে অবস্থিত ‘লোটাস নীলকমল বিজনেস পার্ক’-এ হৃত্বিক রোশনের একটি বিশাল আকৃতির প্রপার্টি রয়েছে। ওই বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের ওপরের তলায় অবস্থিত এই কমার্শিয়াল স্পেসটির আয়তন প্রায় ৬ হাজার বর্গফুট। এই বিশাল জায়গার ভেতরে রয়েছে মোট ৭টি আলাদা কমার্শিয়াল ইউনিট এবং এর সঙ্গে বোনাস হিসেবে সংযোজিত হয়েছে একেবারে ৭টি গাড়ি পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা। পুরো বাণিজ্যিক প্রপার্টিটিই একটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির মাধ্যমে অন্য একটি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, হৃত্বিক রোশনের এই ঝাঁ চকচকে কমার্শিয়াল প্রপার্টিটি ভাড়া নিয়েছে ‘ক্লিয়ারসিন্থ ল্যাবস লিমিটেড’ নামের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত কর্পোরেট সংস্থা। গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই লোভনীয় চুক্তিটি বহাল থাকবে আগামী ২০৩১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত। চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী, এই ভাড়ার চুক্তির প্রথম তিন বছর অর্থাৎ ২০২৯ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত হৃত্বিক প্রতি মাসে নিয়ম করে ১৭ লক্ষ টাকা করে ভাড়া বাবদ পাবেন। আর চুক্তি শেষ হওয়ার আগের শেষ দু’বছরে এই ভাড়ার অঙ্ক একলাফে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি মাসে ১৯.৫৫ লক্ষ টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। তাছাড়া, এই মোটা অঙ্কের ডিল পাকা করার জন্য ওই কর্পোরেট সংস্থা ইতিমধ্যেই অগ্রিম হিসেবে প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকার বিশাল সিকিউরিটি ডিপোজিট বা জামানতও অভিনেতা হৃত্বিক রোশনের হাতে তুলে দিয়েছে।

অবশ্য রিয়েল এস্টেট বাজারে সম্পত্তি কিনে তা থেকে মোটা অঙ্কের নিষ্ক্রিয় বা প্যাসিভ ইনকাম (Passive Income) করার এই সুচতুর অভ্যাস হৃত্বিকের জন্য নতুন কোনো ব্যাপার নয়। অর্থ ঠিক কোথায় এবং কীভাবে খাটালে দীর্ঘ মেয়াদে সবচেয়ে বেশি আর্থিক লাভ ঘরে তোলা সম্ভব, তা হৃত্বিক খুব ভালোভাবেই জানেন। এর আগে তিনি নিজের বাবা তথা বিশিষ্ট পরিচালক রাকেশ রোশনের সংস্থা ‘এইচআরএক্স ডিজিটেক এলএলপি’ এবং মা প্রমীলা রোশনের সংস্থা ‘ফিল্মকুঞ্জ বম্বে প্রাইভেট লিমিটেড’-এর সঙ্গে যৌথভাবে হাত মিলিয়ে আন্ধেরি ওয়েস্ট এলাকাতেই প্রায় ২৮ কোটি টাকা বিশাল অঙ্কমূল্য খরচ করে একসঙ্গে ১০টি আধুনিক অফিস স্পেস কিনেছিলেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর এই নিখুঁত ও দূরদর্শী ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রমাণ করে দেয় যে, গ্ল্যামার দুনিয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনের আর্থিক বিনিয়োগেও তিনি পাকা খেলোয়াড়।