বিজেপির ৩০ বছরের দুর্গে বিরাট ধস! মহাজোটের জল্পনা উড়িয়ে প্রথম জয় নিয়ে কী সাফ জানালেন প্রশান্ত কিশোর?

বিহারের রাজনীতির আঙিনায় এক অভাবনীয় এবং ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ওলটপালট ঘটে গেল। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) দুর্গম ও নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে বড়সড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন জন সুরজ পার্টির (Jan Suraaj Party) প্রতিষ্ঠাতা তথা রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে নেতা হয়ে ওঠা প্রশান্ত কিশোর। এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত কিশোর দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কোনো ধরনের জোটে যাচ্ছেন না। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তাঁর একমাত্র ও প্রধান জোট হবে সরাসরি বিহারের সাধারণ মানুষের সঙ্গে। এই বিপুল জয় প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন যে, রাজ্যের মানুষ গতানুগতিক ও প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলিকে একযোগে প্রত্যাখ্যান করে জন সুরজ পার্টির নতুন বিকল্পকে সসম্মানে বেছে নিয়েছে। বাঁকিপুর কেন্দ্রের এই ফলাফল রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তথা বিজেপির নীরজ কুমার সিনহাকে প্রায় ১৯,৩২৪ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। এই হাই-প্রোফাইল লড়াইয়ে প্রশান্ত কিশোর মোট ৬৪,১৫১টি ভোট ঝুলিতে পুরেছেন, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪,৮২৭টি ভোট। এছাড়া এই ত্রিমুখী লড়াইয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দল বা আরজেডি (RJD) প্রার্থী রেখা কুমারী মাত্র ১৪,২৭৩টি ভোট পেয়ে অত্যন্ত শোচনীয়ভাবে তৃতীয় স্থানে পিছিয়ে পড়েছেন। উল্লেখ্য, বিজেপির এই শক্ত ঘাঁটিটি বিগত ১৯৯৫ সাল থেকে টানা দলের দখলে ছিল এবং এটি দলীয় সভাপতি নীতিন নবীন-এর পারিবারিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে এবার সেই দুর্গে সিঁদ কেটে নিজের প্রথম নির্বাচনী লড়াইয়েই জয় ছিনিয়ে নিলেন পিকে, যার ফলে বিহার বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে খাতা খুলল জন সুরজ পার্টি। নির্বাচনী প্রচারের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশ এবং নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিজয়ী নেতা। নির্বাচনের ঠিক আগে অতিরিক্ত গরম ও নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নানা জটিলতা তৈরি হলেও টিম জন সুরজের নিরলস পরিশ্রমে সেই বাধা অতিক্রম করা সম্ভব হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় বর্তমান এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। তবে জাতীয় স্তরের কোনো মহাজোট বা ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটে তিনি পা বাড়াবেন কি না, সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে প্রশান্ত কিশোর স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি একাই নিজের পথে হেঁটে মানুষের সমর্থনে রাজ্যে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। অন্যদিকে, এই একই দিনে মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী জয়ী হয়ে নিজেদের আসন ধরে রেখেছে এবং গুজরাতের ভদোদরার মঞ্জলপুর আসনে জয়লাভ করেছে বিজেপি। তবে গোটা দেশের নজর আটকে রয়েছে বিহারের বাঁকিপুরেই, যেখানে পিকে-র এই অভাবনীয় উত্থান আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।