২২০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত! টুলু কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিকের গ্রেফতারে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য

বীরভূমের বহুল চর্চিত এবং রাজ্যজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘পাথর সম্রাট’ টুলু মণ্ডল কাণ্ডে তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশের হাতে এল এক চরম ও ঐতিহাসিক সাফল্য। বেআইনি কারবার, কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এবং অপরাধ জগতের গোপন জাল উন্মোচন করতে নেমে পুলিশ এবার সরাসরি হাতকড়া পরাল টুলু মণ্ডলের অন্যতম প্রধান আস্থাভাজন তথা ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে। সোমবার ধৃত অভিযুক্তকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে সিউড়ি আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাঁর ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই গ্রেফতারের পরেই গোটা বীরভূম জেলা তথা রাজ্য রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে এবং এই আর্থিক কেলেঙ্কারির শিকড় ঠিক কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা স্পষ্ট করতে এদিন একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক করেন বীরভূমের পুলিশ সুপার ভিদিত রাজ বুন্দেশ। ওই বৈঠকে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করে জানান যে, এই সমগ্র দুর্নীতি কাণ্ডে এখনও পর্যন্ত প্রায় ২২০ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সফলভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অপরাধমূলক উপায়ে অর্জিত এই বিশাল অঙ্কের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ঘটনা রাজ্যের ইতিহাসে অন্যতম এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশ সুপারের এই ঘোষণার পরই সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
আদালত সূত্রে এবং সরকারি পক্ষের আইনজীবী (স্পেশাল পিপি) বিভাস চ্যাটার্জির বক্তব্য অনুযায়ী, ধৃত ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জেরা করার সময় তদন্তকারীদের হাতে এসেছে একটি অত্যন্ত গোপন ও ‘বিস্ফোরক’ ডায়েরি। এই ডায়েরির পাতা উলটাতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে গোয়েন্দাদের, কারণ সেখানে বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, একাধিক সরকারি আধিকারিক ও দুর্নীতি চক্রের বহু রাঘববোয়ালের নাম অত্যন্ত সুকৌশলে নথিভুক্ত করা রয়েছে। কে বা কারা এই অবৈধ সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মদত জুগিয়ে আসছে, সেই সমস্ত গোপন নাম এবার খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
শুধু ওই গোপন ডায়েরি উদ্ধার করাই নয়, তল্লাশি অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি অত্যাধুনিক এবং বেআইনি ‘নকল DCR’ (District Council Revenue) ছাপানোর বিশেষ যন্ত্র বা মেশিনও উদ্ধার করেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান এবং ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা না দিয়ে, এই গোপন যন্ত্রের সাহায্যেই প্রতিদিন শত শত জাল চালান ও রসিদ তৈরি করা হতো। আর সেই নকল চালানের বলেই দীর্ঘদিন ধরে অবাধে চলেছিল পাথর ও কয়লার অবৈধ পাচার এবং কোটি কোটি টাকার কালো টাকার সাম্রাজ্য। সীতেশ প্রামাণিককে জেরা করে এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত আরও অন্যান্য বড় মাথাদের খুব শীঘ্রই আইনের আওতায় আনা হবে বলে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পুলিশ প্রশাসন।