মোদির দরবারে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়! জল্পনা বাড়িয়ে এনসিপিআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় সমীকরণ বঙ্গ রাজনীতিতে

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে বর্তমানে যে কয়েকটি বিষয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি জল্পনা ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো এনসিপিআই (NCPI) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক সমীকরণ। সমস্ত জল্পনাকে সত্যি প্রমাণ করে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপিআই-এর ভবিষ্যৎ পথচলা এবং এনডিএ (NDA)-র সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। ঠিক এই পটভূমিতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ঠিক কী নিয়ে এই আলোচনা হলো? সূত্রের খবর, এনসিপিআই-র সাংবিধানিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা এবং সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি, দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দলীয় সাংসদদের যে উচ্চপর্যায় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, সে বিষয়েও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।

এদিকে, এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মাঝেই রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা কুণাল ঘোষ। তাঁর এক বিস্ফোরক মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে একেবারে নতুন মোড় এনে দিয়েছে। কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন যে, এনসিপিআই-এর পতাকাতলে আশ্রয় নেওয়া ছয়েরও বেশি বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ নাকি ইতিমধ্যেই পুরোনো দল অর্থাৎ ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সঙ্গে গোপন যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছেন। শুধু তাই নয়, ঋতব্রত শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ৩০ জনেরও বেশি বিধায়কও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলে তাঁর দাবি। কুণাল আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও কথা বলেছেন। তাঁর মতে, অতীতে পুলিশের প্রবল চাপ ও বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে অনেকে দল ছেড়ে চলে গেলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ ভোটারদের মনস্তত্ত্ব দেখে অনেকেই এখন ঘরে ফেরার কথা ভাবছেন। ফলে বাংলার রাজনীতিতে এখন একটি স্পষ্ট ‘উল্টোস্রোত’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে তাঁর অভিমত।

মঙ্গলবার দিল্লির বঙ্গভবনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এনসিপিআই-এর বিদ্রোহী সাংসদদের পূর্বনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মূলত আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল, সাংগঠনিক রূপরেখা, ভবিষ্যৎ অবস্থান এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেবে। একদিকে এনডিএ বৈঠকে এনসিপিআই-র সক্রিয় উপস্থিতি, অন্যদিকে খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠক এবং সমান্তরালে কুন্তল বা কুণাল ঘোষদের বিস্ফোরক দাবি—সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে বাংলা তথা জাতীয় রাজনীতি এক অত্যন্ত নাটকীয় ও রোমাঞ্চকর মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে এনসিপিআই শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোবে, তার উত্তর মিলতে খুব বেশি দেরি নেই।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty