গ্রেটার নয়ডার ইলেকট্রনিক্স কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড! আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন দুই বীর দমকলকর্মী

উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডা এলাকার একটি ইলেকট্রনিক্স প্রস্তুতকারক কারখানায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার ভোরে গ্রেটার নয়ডার ইকোটেক-৩ থানা এলাকার অন্তর্গত বিখ্যাত ইলেকট্রনিক্স চিপ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘আইএলজিআইএম’ (ILGIM) কারখানায় হঠাৎ করেই এই ভয়াবহ আগুন লাগে। কারখানার ভেতরে দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই স্থানীয় থানা এবং দমকল বাহিনীর একাধিক ইঞ্জিন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশাল উদ্ধারকার্য শুরু করে। একটানা প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিরলস প্রচেষ্টার পর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিপর্যয়, যা কেড়ে নেয় দুই কর্তব্যরত কর্মীর প্রাণ।

দমকল বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগুন নেভানোর কাজ যখন একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল, ঠিক তখনই হঠাৎ করেই কারখানার একটি বিশাল দেওয়াল এবং ছাদের ভারী লোহার বিমগুলো তীব্র বেগে ধসে পড়ে। সেই ভারী ধ্বংসস্তূপের নিচে দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আকস্মিক আটকে পড়েন এবং গুরুতরভাবে আহত হন। দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে আহত পাঁচজন কর্মীকে তৎক্ষণাৎ নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফায়ারম্যান রোহিত যাদব এবং চিফ কনস্টেবল ড্রাইভার তীর্থপাল সিং মর্মান্তিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই দুর্ঘটনায় আহত অপর তিনজন কর্মী—চিফ কনস্টেবল ড্রাইভার রাজপাল সিং, ফায়ারম্যান মণীশ কুমার এবং ফায়ারম্যান অমিত কুমার বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তাঁদের আঘাত গুরুতর হলেও তাঁদের প্রাণ সংশয় নেই, তবে নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর পরই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকগণ এবং স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF)-এর বিশেষ দল। বর্তমানে গোটা কারখানা চত্বর কঠোর নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে এবং উদ্ধারকাজ জোরদার করা হয়েছে। ধসে পড়া কাঠামোর পাশাপাশি পুরো কারখানার অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। কারখানার অন্য কোনো দুর্বল অংশ নতুন করে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, তাও গভীরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রয়োজন পড়লে সেই দুর্বল অংশগুলো আগে থেকেই ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।

প্রাথমিকভাবে ঠিক কীভাবে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায়নি। তবে শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই আগুন লেগেছে, তা জানতে ইতিমধ্যেই ফরেনসিক টিমসহ বিশদ তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, আগুন নেভানোর সুনির্দিষ্ট কাজের সময় হঠাৎ করে দেওয়াল ও লোহার ভারী বিম ধসে পড়ার নেপথ্যে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা। এই বিষয়ে সিএফও (CFO) প্রদীপ কুমার চৌবে গণমাধ্যমকে জানান যে, এসডিআরএফের দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা চালাচ্ছে এবং অগ্নিকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। কর্তব্যের খাতিরে প্রাণ উৎসর্গকারী ওই দুই সাহসী দমকলকর্মীর এই প্রয়াণে গোটা প্রশাসনিক মহলে গভীর শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty