সিদ্ধিভিনায়ক মন্দিরে ১৮ কোটি টাকার অনুদান চুরি! ৯ জন গ্রেফতার ও ৪৬ কর্মীকে বরখাস্ত করতেই রাজনৈতিক ঝড়

অযোধ্যার রাম মন্দিরের পর এবার মুম্বইয়ের বিখ্যাত সিদ্ধিভিনায়ক মন্দিরে কোটি কোটি টাকার অনুদান চুরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল। সিদ্ধিভিনায়ক টেম্পল ট্রাস্টের সভাপতি সদা সর্বঙ্কর সোমবার এক প্রেস কনফারেন্সে জানিয়েছেন যে, মন্দিরে প্রায় ১৮ কোটি টাকারও বেশি তছরুপ ও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় দুর্নীতি দমন ব্যুরো (ACB)-র নজরদারির পর মোট ৪৬ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই চুরির নেপথ্যে বিরোধী দল শিবসেনা (ইউবিটি)-র যোগসূত্র রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ট্রাস্টের প্রধান।

তদন্ত ও গ্রেফতারির চাঞ্চল্যকর তথ্য

সিদ্ধিভিনায়ক ট্রাস্টের প্রধান সদা সর্বঙ্কর জানান, গত বছরগুলিতে অনুদান গণনা এবং ভিআইপি দর্শনের সময় ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের কাছে চিঠি পাঠানো হয় এবং অ্যান্টি কোরাপশন ব্রাঞ্চকে (ACB) বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়।

  • এসিবি আধিকারিকদের নজরদারিতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে প্রধান সন্দেহভাজন রাজন পেন্ডুলকর সহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • টাকার গণনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ৪৬ জন কর্মীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

  • জিপিএ (GPay) বা অনলাইনের মাধ্যমে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগে আরও ১৯ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুয়া ফুলের দোকানের মাধ্যমে ভিআইপি দর্শন করানোর জালিয়াতিও ধরা পড়েছে।

শিবসেনা (UBT)-র দিকে আঙুল ও সিআইডি তদন্তের দাবি

এই বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারির নেপথ্যে রাজনৈতিক যোগ রয়েছে বলে দাবি করে ট্রাস্টের প্রধান বলেন, “তদন্তে জানা গেছে যে এই চোরদের মদত বা ভাড়া করেছিল ইউবিটি-র নেত্রী বিশাখা রাউত। গ্রেফতার হওয়া কর্মচারীদের অধিকাংশই শিবসেনা (UBT)-র বিভিন্ন শাখার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ভগবান সিদ্ধিভিনায়ককে বদনাম করার এটি একটি গভীর চক্রান্ত।” পুরো ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে এবং এর আসল পাণ্ডাদের খুঁজে বের করতে রাজ্য সরকারের কাছে সিআইডি (CID) তদন্তের দাবি জানিয়েছে সিদ্ধিভিনায়ক ট্রাস্ট। মহারাষ্ট্রের অন্যতম ধনী এবং পবিত্র এই মন্দিরে এমন দুর্নীতির খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।