ভারত সীমান্তে চীন-পাকিস্তানের ভয়ঙ্কর যৌথ ফাঁদ! মোতায়েন চিনের বিধ্বংসী জে-২০ স্টিলথ ফাইটার আর চিনের এসএইচ-১৫ হাউইটজার!

ভারতকে চাপে ফেলতে এবার জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি (LAC)-র ওপারে সামরিক প্রস্তুতি চরমে তুলেছে দুই প্রতিবেশী শত্রু দেশ চীন ও পাকিস্তান। এতদিন বিষয়টি কেবল ধারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ভারতের আকাশ ও স্থল সীমান্ত বরাবর দুই দেশের যৌথ এবং আগ্রাসী রণকৌশল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভারতের আকাশসীমা ও ভূখণ্ডে লাগাতার কৌশলগত চাপ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই যৌথ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তবে যেকোনো উসকানি এবং সুরক্ষার প্রশ্নে ভারতীয় সেনা যে সমানভাবে প্রস্তুত, তা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
মূলত পাকিস্তানের সামরিক শক্তি বাড়াতে চিনা প্রযুক্তির ওপর ভরসা করা হচ্ছে। চিন থেকে আমদানিকৃত সর্বাধুনিক এসএইচ-১৫ (SH-15) ১৫৫ মিলিমিটারের সেলফ-প্রোপেলড হাউইটজার তোপগুলি পাকিস্তান ভারতের ঠিক সামনে পাঞ্জাব ও কাশ্মীর সেক্টরে ব্যাপক সংখ্যায় মোতায়েন করেছে। ২০১৯ সালে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী চিনা ডিফেন্স জায়ান্ট নরিন্কো (Norinco) কোম্পানির কাছ থেকে এই মারণ অস্ত্রগুলি কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ২০২২ থেকে শুরু হয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে সেই সমস্ত অত্যাধুনিক তোপের চালান পাকিস্তানে এসে পৌঁছায়। শুধু তাই নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তির অধীনে পাকিস্তানের ট্যাক্সিলা শহরে অবস্থিত হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ কারখানাতেও এই অস্ত্রগুলির স্থানীয় উৎপাদন শুরু হয়েছে।
এই শক্তিশালী এসএইচ-১৫ তোপগুলির প্রধান নিশানা মূলত ভারতের গুজরাওয়ালা, শিয়ালকোট এবং জলালপুর জাট্টিয়ান অঞ্চল, যা অত্যন্ত সংবেদনশীল শকরগড় বুল্জ এলাকার ঠিক পেছনে অবস্থিত। ভারতের পাঞ্জাব ও জম্মু সীমান্তের এই ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর। প্রতিরক্ষা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত বছর সংঘটিত একাধিক সামরিক কার্যক্রমেও পাকিস্তান এই হাই-প্রোফাইল তোপগুলি ব্যবহার করেছিল। ৫২ ক্যালিবার ক্ষমতাসম্পন্ন এই এসএইচ-১৫ তোপগুলি ৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর পর্যন্ত নিখুঁত নিশানায় গোলা দাগতে সক্ষম। পাহাড়ি ও সমতল উভয় ভূমিতেই দ্রুত গতিতে перемещение বা চলাচল করতে পারার কারণে গতানুগতিক তোপের তুলনায় এগুলির ধ্বংস ক্ষমতা অনেক বেশি।
অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (LAC)-র অপর প্রান্তে ভারতের ওপর আকাশপথে চাপ বাড়াতে চিনও তার পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান രംഗে নামিয়েছে। উপগ্রহ চিত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিবারেশন পার্টির বিমান বাহিনী (PLAAF) ভারতের লাদাখ ও অরুণাচল প্রদেশ সংলগ্ন অত্যন্ত সংবেদনশীল দুটি অগ্রিম বিমানঘাঁটিতে কমপক্ষে ১২টি সর্বাধুনিক জে-২০ (J-20) ‘মাইটি ড্রাগন’ স্টিলথ ফাইটার বিমান মোতায়েন করেছে। গত জুলাই ও জুনের স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেષণে জিনজিয়াং প্রদেশের হোটান বিমানঘাঁটি এবং তিব্বতের দামশুগ বিমানঘাঁটির সুরক্ষিত হ্যাঙ্গারের নিচে এই অত্যাধুনিক অদৃশ্য যুদ্ধবিমানগুলি স্পষ্টভাবে নজরে এসেছে। ভারতের কৌশলগত দৌলত বেগ ওল্ডি এবং কৌশলগত তवाং সেক্টরের অত্যন্ত কাছাকাছি এই যুদ্ধবিমানগুলির উপস্থিতি সাম্প্রতিক অতীতে চিনের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি প্রদর্শন বলে মনে করা হচ্ছে।
চিনের এই জে-২০ বিমানগুলি রাডার ফাঁকি দিতে অত্যন্ত পারদর্শী এবং দীর্ঘ দূরত্বে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর থেকেই এলএসি বরাবর উভয় দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামরিক টানাপোড়েন বজায় রয়েছে। কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে একাধিক দফার বৈঠক সত্ত্বেও চিনা ফৌজ সীমান্ত এলাকায় নিজেদের সামরিক পরিকাঠামো কমানোর কোনো লক্ষণ দেখায়নি। বরং তারা স্থায়ীভাবে যুদ্ধবিমান, সাজোয়া গাড়ি এবং আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার সাজিয়ে রাখছে।
তবে বসে নেই ভারতও। দেশের সামরিক শক্তি ও সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ভারতীয় সেনা দ্রুততার সঙ্গে নিজেদের অস্ত্রাগার আধুনিক করে তুলছে। ‘ফিল্ড আর্টিলারি র্যাশনালাইজেশন প্ল্যান’ বা এফএআরপি (FARP)-র আওতায় দেশের সমস্ত পুরোনো কামান বদলে ১৫৫ মিমি ক্ষমতার আর্টিলারি সিস্টেম যুক্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এম৭৭৭ আল্ট্রা-লাইট হাউইটজার, কে-৯ বজ্র এবং দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ধনুশ কামান ভারতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক তোপ এভিয়েশন সিস্টেম এবং এসংক্রান্ত অন্যান্য পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভারতের এই সামগ্রিক প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি স্পষ্ট করে দেয় যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষায় ভারত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।