মুক্তির আগেই আইনি জট! নীতেশ তিওয়ারির ‘রামায়ণ’ দেখতে চেয়ে কী শর্ত দিল হিন্দু সংগঠন?

দীপাবলি ২০২৬-এ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে পরিচালক নীতেশ তিওয়ারির অত্যন্ত প্রতীক্ষিত মেগা-বাজেট ছবি ‘রামায়ণ: পার্ট ওয়ান’। তবে প্রেক্ষাগৃহে আসার আগেই আইনি ও সামাজিক বিতর্কের মুখে পড়ে গেল এই ছবি। দিল্লির শ্রী রামলীলা মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে ছবির নির্মাতাদের কাছে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনের স্পষ্ট বক্তব্য, সিনেমাটি সর্বসাধারণের জন্য মুক্তি পাওয়ার আগে সংগঠনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন রামলীলা কমিটি এবং বিশিষ্ট হিন্দু সংগঠনগুলির সদস্যদের জন্য একটি প্রিভিউ শো বা বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের আয়োজন করা হোক, যাতে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হানতে পারে এমন কোনও আপত্তিকর দৃশ্য বা সংলাপ থাকলে তা আগে থেকেই চিহ্নিত করে সংশোধন করা সম্ভব হয়।
এই জোরালো দাবি জানিয়ে পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি এবং সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার উদ্দেশে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন শ্রী রামলীলা মহাসঙ্ঘের সভাপতি অর্জুন কুমার। তাঁর মূল যুক্তি হলো, দেশ ও বিদেশের প্রেক্ষাগৃহে ছবি মুক্তি পাওয়ার ঠিক আগে যদি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সংগঠনগুলিকে একবার ছবিটি দেখানো হয়, তবে যে কোনও ধরনের অসঙ্গতি বা আপত্তিকর বিষয় চিহ্নিত করে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে।
এ প্রসঙ্গে অর্জুন কুমার ২০২৩ সালের অত্যন্ত বিতর্কিত ছবি ‘আদিপুরুষ’-এর উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, সেই ছবিতে একাধিক দৃশ্য, সংলাপ এবং চরিত্রের উপস্থাপনা নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ ছিল, সোনার লঙ্কাকে কৃত্রিমভাবে কালো রঙে দেখানো এবং কিছু চরিত্রের ভুল নকশা বা পোশাক-পরিচ্ছদ সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। তাঁর মতে, এই অবমাননাকর বিতর্কই শেষ পর্যন্ত ছবিটির বক্স অফিস ফলাফলকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
একই সঙ্গে তিনি এও স্পষ্ট করে জানান যে, অভিনেতা রণবীর কাপুর অভিনীত নতুন ‘রামায়ণ’ ছবিটিকে তাঁরা সাধুবাদ জানাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এমনকি সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে এই ছবির প্রদর্শনীর আয়োজন করার পরিকল্পনাও তাঁদের রয়েছে। তবে সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা কিছু ঝলক ও তথ্য দেখে তাঁর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে, রণবীরের ভগবান রামের চরিত্রায়ণে সেই চিরাচরিত গাম্ভীর্য এবং ঐতিহ্যবাহী ভাবমূর্তি পুরোপুরি ফুটে ওঠেনি। মহাসঙ্ঘের দাবি, তাদের কাছে এমন কিছু তথ্য এসেছে যার ভিত্তিতে মনে করা হচ্ছে ছবিতে এমন কিছু দৃশ্য থাকতে পারে যা বিশ্বজুড়ে থাকা হিন্দু সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
পাশাপাশি সংগঠনের তরফে নির্মাতাদের উদ্দেশে একটি কঠোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। যদি নির্মাতারা তাঁদের এই যুক্তিসঙ্গত অনুরোধে সাড়া না দেন, তবে দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রেক্ষাগৃহের সামনে তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে। যদিও তারা স্বীকার করেছে যে ছবির সেন্সর শংসাপত্র বা অনুমোদনের আইনি দায়িত্ব তাদের নয়, তবুও মহাকাব্যের ভুল ব্যাখ্যা বা বিকৃত উপস্থাপনা বরদাস্ত করা হবে না। নীতেশ তিওয়ারির এই ছবিতে রামের ভূমিকায় রণবীর কাপুরের অভিনয় নিয়ে ইতিমধ্যেই ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তবে নতুন এই বিতর্ক ছবির যাত্রাপথে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।