বাইকে এসে এলোপাথাড়ি ১১ রাউন্ড গুলি! নলহাটিতে শপিং মল মালিক সহ রক্তাক্ত ৩ ব্যবসায়ী, একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

রাতের অন্ধকারে বীরভূমের নলহাটিতে ঘটে গেল এক লোমহর্ষক ঘটনা। শপিং মল বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুই বাইকে করে এসে চার দুষ্কৃতী এলোপাথাড়ি গুলি চালায় বলে অভিযোগ। এই বর্বরোচিত হামলায় রক্তাক্ত হন তিন ব্যবসায়ী। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রবিবার রাতে নলহাটি শহরের উদয়নগর গ্রামের কাছে বৈদ্যনাথ-নলহাটি রাস্তায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নলহাটি শহরে শাহে আলম শেখের একটি শপিং মল রয়েছে। রবিবার রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি দুই পরিচিত রেজ্জাক শেখ (ওরফে জনি শেখ) এবং হাবিবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে দুটি মোটরবাইকে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিলেন।

বাড়ি আর মাত্র কয়েক মিনিটের পথ দূরে থাকাকালীন, উদয়নগর গ্রামের কাছে একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফর্মারের পাশে অন্ধকারে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল চার দুষ্কৃতী। শাহে আলমদের বাইক সেখানে পৌঁছতেই প্রথমে বচসা শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। কোনো কিছু বোঝার আগেই দুষ্কৃতীরা ताबड़तोड़ গুলি চালাতে শুরু করে এবং দ্রুত জয়পুরমুখী রাস্তা ধরে চম্পট দেয়।

কার কেমন আঘাত লেগেছে?

আহত হাবিবুল হোসেনের দাবি অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোট ১১ রাউন্ড গুলি চালায়।

  • রেজ্জাক শেখ: তাঁর শরীরে একাধিক (চারটি) গুলি লাগে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে রামপুরহাট থেকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে, যেখানে সোমবার সকালে তাঁর অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হয়।

  • শাহে আলম শেখ: তাঁর শরীরে দুটি গুলি লাগে। তাঁকেও দুর্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়।

  • হাবিবুল হোসেন: তাঁর কাঁধে একটি গুলি বিদ্ধ হয়ে শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। তিনি রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজেই চিকিৎসাধীন।

পুলিশের তদন্ত ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাতের নির্জন রাস্তায় এমন দুঃসাহসিক ও রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন। বীরভূমে কি ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে দুষ্কৃতীদের দাপট? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নলহাটি থানার পুলিশ সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করে তল্লাশি শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই হামলার নেপথ্যে ব্যবসা সংক্রান্ত কোনো পুরনো বিবাদ বা ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকতে পারে। তবে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।