“হিন্দু সমাজকে একজোট করার জন্যই টার্গেট!” চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারকে ‘অবৈধ’ বলে তোপ তসলিমা নাসরিনের

হিন্দু সন্ন্যাসী তথা ইসকনের প্রাক্তন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারির তীব্র নিন্দা করলেন নির্বাসিত বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সম্পূর্ণ ‘অবৈধভাবে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন এবং চিন্ময় দাসের আটকের ঘটনা নিয়ে এবার প্রকাশ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তিনি।

কী বললেন তসলিমা নাসরিন?
একটি সাংবাদিক বৈঠকে তসলিমা নাসরিন বলেন, তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর বেআইনি গ্রেপ্তারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সরকার ঠিক কী কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে, তা স্পষ্ট না হলেও তাঁর ধারণা, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়কে একজোট করার যে প্রচেষ্টা চিন্ময় চালাচ্ছিলেন, সেটাই এই গ্রেপ্তারের মূল কারণ।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনি আপডেট
তসলিমা নাসরিনের এই মন্তব্যের মাঝেই রবিবার বাংলাদেশের হাইকোর্ট থেকে বড় স্বস্তি মিলেছে। চিন্ময় দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার এবং বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চিন্ময়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চারটি মামলার মধ্যে দুটি মামলায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছে। খুনের চেষ্টা, ভাঙচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগের মামলাগুলিতে এই জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি দুটি মামলার শুনানির জন্য আগামী ১৬ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে।

পটভূমি ও প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গত ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল। এরপর তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ও পরবর্তীতে আইনজীবী সইফুল ইসলাম হত্যার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। সংখ্যালঘু হিন্দুদের সুরক্ষার দাবি এবং বিভিন্ন সংস্কারের জন্য সোচ্চার হওয়া চিন্ময়ের এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে এর আগে ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কেও যথেষ্ট উত্তাপ ছড়িয়েছিল।