পিওকে-তে রক্তগঙ্গা! পাকিস্তানি সেনার গুলিতে ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) মানবাধিকার লঙ্ঘন, ব্যাপক সহিংসতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পৈশাচিক দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। নিজেদের মৌলিক অধিকার ও জীবনযাত্রার ন্যায্য দাবির দাবিতে রাজপথে নেমে আসা সাধারণ মানুষের ওপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক সরাসরি গুলি চালানোর মর্মান্তিক ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই নৃশংসতার প্রতিবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন প্রবাসী মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীরা। একইসঙ্গে, এই নির্বিচার সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ৫০ জনেরও বেশি ব্রিটিশ সংসদ সদস্য একটি জোরালো যৌথ চিঠি লিখেছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই ৪০ জনেরও বেশি নিরপরাধ বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু তাই নয়, এই দমনপীড়নের পর থেকে ১০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে গভীর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সাংসদরা তাঁদের চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী অজস্র কাশ্মীরি পরিবার নিজেদের স্বজনদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই অমানবিক পরিস্থিতির দ্রুত প্রশমন ঘটানোর জন্য তাঁরা অবিলম্বে ব্রিটিশ সরকারকে কূটনৈতিক স্তরে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের জোরালো আর্জি জানিয়েছেন।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও চুপ করে বসে নেই। রাওয়ালকোটে আঞ্চলিক নির্বাচনের প্রথম দিনে সংঘটিত এই পৈশাচিক সহিংসতার বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান সরকারের কাছে সরাসরি জবাবদিহি দাবি করেছে। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ইসাবেল লেসি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এই বর্বরোচিত কর্মকাণ্ডের একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ বিচারিক তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে যে, ক্রমবর্ধমান হতাহতের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা ওয়াশিংটনে পাক দূতাবাসের বাইরে তীব্র স্লোগান তুলছেন। পিওকে-তে চলমান এই তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মূলত বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে এই রক্তপাতের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে যে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী ইচ্ছেকৃভাবে তাজা গুলি ও মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ফলে সেখানে চরম তথ্য ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার সূত্রপাত হয়েছিল জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (JAAC)-এর নেতৃত্বে চলা আন্দোলন থেকে। সুশাসন, নাগরিক অধিকার এবং মৌলিক সুবিধার দাবিতে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনই এখন রক্তক্ষয়ী সংঘাতে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবিলম্বে এই দমনপীড়ন বন্ধ করে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।