যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও স্বস্তি! ইথানলের জাদুতে কীভাবে ভারতে জলের দরে মিলছিল পেট্রোল?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও তীব্র উত্তেজনার জেরে যখন গোটা বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের বাজারদর একেবারে আকাশছোঁয়া হয়ে গিয়েছিল, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তেও ভারতের সাধারণ মানুষের পকেট বাঁচাতে ত্রাতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল ইথানল। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের সাম্প্রতিক তথ্য ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেট্রোলের সঙ্গে নির্দিষ্ট অনুপাতে সস্তা ইথানল মেশানোর কল্যাণেই দেশের বাজারে পেট্রোলের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছিল এবং সাধারণ গ্রাহকরা প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা পর্যন্ত কম দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। যদি এই যুগোপযোগী দেশীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হতো, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের ভয়াবহ পরিস্থিতির জেরে দিল্লির সাধারণ মানুষকে প্রতি লিটার পেট্রোলের জন্য ১২৫ টাকা পর্যন্ত চড়া মূল্য চোকাতে হতো।
দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ প্রতিবেদন সূত্রে জানা যাচ্ছে যে, পূর্বনির্ধারিত এবং সাশ্রয়ী মূল্যে দেশীয় উৎস থেকে সংগৃহীত ইথানল পেট্রোলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পেট্রোলে কুড়ি শতাংশ সস্তা ইথানল মিশ্রিত থাকার সুবাদেই রাজধানী দিল্লির ভোক্তারা প্রতি লিটার পেট্রোল মাত্র ৯৪.৭৭ টাকায় ক্রয় করার সুযোগ পেয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যখন ব্যারেল প্রতি ১৩৫ মার্কিন ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল, সেই চরম সংকটের দিনেও ইথানল ব্লেন্ডিং নীতি ভারতের অর্থনীতিকে এবং সাধারণ উপভোক্তাদের বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কা থেকে সফলভাবে রক্ষা করেছিল।
তীব্র আন্তর্জাতিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও ভারত সরকার জ্বালানির বাজারে এক ঐতিহাসিক ও দীর্ঘস্থায়ী স্থিতাবস্থা বজায় রেখেছিল। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি দানা বাঁধার পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় টানা ৭৫ দিন ধরে দেশের বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরা বিক্রয়মূল্য সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রেখেছিল। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম তীব্র বেগে ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সাধারণ মানুষের ওপর তার তাত্ক্ষণিক চাপ পড়তে দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বাজারের দীর্ঘমেয়াদী চাপের কথা মাথায় রেখে মে মাসে সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি সাড়ে সাত টাকা বৃদ্ধি করে। বর্তমান বাজারে রাজধানী দিল্লিতে ই২০ অর্থাৎ ৯১ অকটেন বিশিষ্ট পেট্রোলের খুচরা মূল্য প্রতি লিটারে দাঁড়িয়েছে ১০২.১২ টাকা, অন্যদিকে উন্নত মানের ১০০-অকটেন বিশিষ্ট বিশেষ পেট্রোল প্রতি লিটার ১৬৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে দেশীয় ইথানল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এর সঠিক ব্যবহারের নীতি ভারতীয় জ্বালানি খাতের সুরক্ষায় একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, যা আগামী দিনেও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।