বন্দে মাতরমের অবমাননা করলেই এবার সোজা জেল! ঐতিহাসিক আইন পাস হতেই কী প্রতিক্রিয়া দিলেন বঙ্কিম বংশধর?

জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর ঠিক সমকক্ষ আইনি মর্যাদা লাভ করল ভারতের অমর জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’। সংসদের উভয় কক্ষে পাস হওয়া নতুন এই যুগান্তকারী আইন অনুযায়ী, এখন থেকে জাতীয় গীত বন্দে মাতরমের যেকোনো ধরনের অবমাননা কিংবা এর গানে বাধা সৃষ্টি করা একটি কঠোর ও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের জেলের সাজা, আর্থিক জরিমানা কিংবা একসঙ্গে উভয় দণ্ডের কড়া সংস্থান রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় গীতের আইনি সুরক্ষার যে অভাব অনুভূত হচ্ছিল, মোদী সরকারের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলে সেই দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে পূর্ণতা পেল।

সংসদে জাতীয় গৌরব অপমান निवारण (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত জোরালোভাবে স্বাগত জানিয়েছেন অমর সাহিত্যিক তথা জাতীয় গীতের রচয়িতা ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পঞ্চম প্রজন্মের বংশধর তথা বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সুमित्रा চট্টোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটির জনপ্রিয় বিজেপি বিধায়ক সুমিত্রা চট্টোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান যে, স্বাধীনতার এত দীর্ঘ বছর পরেও বিগত সরকারগুলো দেশের জাতীয় গীতকে তার প্রাপ্য ও কাঙ্ক্ষিত আইনি সম্মান ও মর্যাদা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ বা এনডিএ সরকার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটি অত্যন্ত সাহসী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মাধ্যমে বন্দে মাতরম আজ তার দীর্ঘদিনের পাওনা সেই সুমহান সাংবিধানিক সম্মান ফিরে পেল।

উল্লেখ্য, বুধবার রাজ্যসভায় এই গুরুত্বপূর্ণ বিলটি পাস হওয়ার পর বৃহস্পতিবার চরম হট্টগোল ও হইচইয়ের মাঝেই লোকসভাতেও ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে। এর আগে ১৯৭१ সালের মূল আইনের সংশোধন করে নতুন এই সংস্থান যুক্ত করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই নতুন সংশোধনী বিলটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ‘বন্দে মাতরম’ দেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমকক্ষ মর্যাদা উপভোগ করবে। ফলে এখন থেকে জাতীয় গীত গাওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া, অবমাননা করা কিংবা এ জাতীয় কোনো অনুষ্ঠানে অশান্তি বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লোকসভায় এই বিলের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনার জবাব দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বিগত কংগ্রেস সরকারের তীব্র সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, তাদের দীর্ঘ শাসনকালে জাতীয় গীতের প্রতি চরম অবহেলা দেখানো হয়েছে।

ইতিহাসের পাতা থেকে জানা যায় যে, ভারতের অমর জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ প্রথম রচনা করেছিলেন অমর সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে। পরবর্তীতে ১৮৮২ সালে প্রকাশিত তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’-এ এই চিরন্তন গানটিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিগর্ভ দিনগুলোতে এই গানটি দেশের কোটি কোটি দেশবাসীর জন্য এক বিশাল ও অবিচল প্রেরণার প্রধান উৎস হয়ে উঠেছিল এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে এক অসামান্য ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিল। বর্তমান সরকারের এই সুদূরপ্রসারী ও দৃঢ় আইনি পদক্ষেপ দেশের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদকে আরও বহুগুণ শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।