এআই গ্রহণে বিশ্বকে পেছনে ফেলল ভারত! কিন্তু কেন পিছিয়ে পড়ছে বড় বড় কোম্পানিগুলো?

সাম্প্রতিক একটি নতুন আন্তর্জাতিক গবেষণা রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে যে, ভারতীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তিকে নিজেদের ব্যবসায়িক মডেলে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে এই বিপুল আগ্রহ সত্ত্বেও তাদের প্রাথমিক প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং এর বাস্তবভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রয়োগ বা রূপায়নের মধ্যে এখনও একটি বিরাট ব্যবধান রয়ে গেছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, দেশের প্রায় ৭৭ শতাংশ শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী দিনে এআই প্রযুক্তি প্রচলিত কর্মক্ষেত্রের রূপরেখা ও কার্যপদ্ধতি সম্পূর্ণ বদলে দেবে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এর মধ্যে মাত্র ১৯ শতাংশ কোম্পানি তাদের আধুনিক অফিস স্পেস এবং দৈনন্দিন কার্যপরিচালনায় এআই-চালিত পরিবর্তনগুলোর সফল প্রয়োগ শুরু করতে পেরেছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে বিশ্বের ২১টি ভিন্ন দেশ এবং ২,২০০-র বেশি শীর্ষস্থানীয় সিইও, সিএফও এবং কর্পোরেট রিয়েল এস্টেট নেতাদের অংশগ্রহণে এই সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে ভারত এআই প্রস্তুতির সমস্ত আটটি প্রধান সূচকে বিশ্ব গড়কে অনেক পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করেছে।
কর্মক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যাপক অনুপ্রবেশ সত্ত্বেও দেশের সামগ্রিক কর্মসংস্থান এবং মানবসম্পদ খাতের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভারতীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক রয়ে গেছে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রায় ৫৮ শতাংশ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আগামী দিনে তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংখ্যা বা ওয়ার্কফোর্সের উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটবে বলে জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, প্রায় ৬২ শতাংশ কর্মকর্তার দৃঢ় বিশ্বাস যে, এআই কখনো মানুষের চাকরি কেড়ে নিয়ে বেকারত্ব বাড়াবে না, বরং এটি কর্মচারীদের কাজের প্রকৃত মূল্য ও দক্ষতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। পাশাপাশি, প্রায় ৬৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে, আগামী দিনে কর্মচারীদের কাজের মূল্যায়ন কেবল গতানুগতিক কর্মঘণ্টার মাপকাঠিতে নয়, বরং তাদের কাজের নিখুঁত গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করেই করা হবে। এই ডিজিটাল রূপান্তরের পথে দেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দক্ষ মানবসম্পদের অভাবকে। প্রায় ৪৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে, উপযুক্ত এআই প্রযুক্তি এবং ডেটা সায়েন্সে দক্ষ প্রতিভার চরম সংকটই প্রধান বাধা, যা বাজেট ঘাটতির (৩৫ শতাংশ) চেয়েও অনেক বড় সমস্যা। এই প্রসঙ্গে প্রখ্যাত শিল্প বিশেষজ্ঞ অজিত কুমার জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যে সমস্ত কোম্পানি নতুন প্রজন্মের দক্ষতা বিকাশ ও প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে, তারা আগামী দিনে ভারতের কর্মক্ষেত্রের এই যুগান্তকারী পরিবর্তনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভারতীয় কর্পোরেট সংস্থাগুলো আধুনিক এআই-চালিত কর্মক্ষেত্রের রূপান্তরে অত্যন্ত ভারী অংকের বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি উত্তরদাতা উন্নত প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং আধুনিক এআই সিস্টেমকে তাদের ব্যবসার মূল অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং প্রায় ৪৯ শতাংশ কোম্পানি তাদের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। তবে এতকিছুর পরেও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা গোপনীয়তা সংক্রান্ত ঝুঁকি (৪৬ শতাংশ), এআই-জনিত ব্যবসায়িক ব্যবধান (৪৬ শতাংশ) এবং অফিসের জায়গার ওপর এআই-এর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে। বিশেষ করে, সমীক্ষায় এটিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, এআই-এর প্রবল প্রভাব সত্ত্বেও ভারতীয় অফিসগুলোতে কর্মীদের উপস্থিতির হার এখনও বেশ উঁচুতে রয়েছে। বর্তমানে কর্মীরা সপ্তাহে গড়ে প্রায় ৩.৮ দিন অফিস থেকে সরাসরি কাজ করছেন এবং প্রায় ৬২ শতাংশ কোম্পানি তাদের কর্মীদের সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন বাধ্যতামূলকভাবে অফিসে এসে কাজ করার নিয়ম বজায় রাখছে।