মাঝরাতে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল ভিওয়ান্ডি! ৪ তলা বিপজ্জনক আবাসিক ভবন ভেঙে মর্মান্তিক মৃত্যু ৬ জনের

মহারাষ্ট্রের ভিওয়ান্ডি এলাকায় এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী রইল স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি চারতলা বসতবাড়ি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারিপাশ এবং মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের আশঙ্কা ছিল যে এই দুর্ঘটনায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, এবং শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হলো। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যুর মর্মান্তিক খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে বিশাল এই বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না বা আরও কোনো মৃতদেহ লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে প্রশাসন। সূত্রের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে তীব্র আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং জোরকদমে উদ্ধারকাজ এখনও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ভেঙে পড়া ওই ভবনটিতে মোট ৪৮টি ঘর বা কক্ষ ছিল। বাড়িটির প্রতিটি তলায় ছিল ১২টি করে ঘর। গত বৃহস্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা নাগাদ আচমকাই বাড়িটির একটি অংশ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। স্থানীয় পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ওই ভবনটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এমনকি দুর্ঘটনার সময় ভবনটিতে মেরামতির কাজও চলছি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় নটা নাগাদ তাঁরা ভবনের ভিতর থেকে একটি বিকট শব্দ শুনতে পান। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনকে খবর দেন এবং এর জেরে বেশ কয়েকটি পরিবারকে তৎক্ষণাৎ নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। তবে কিছু মানুষ তখনও বাড়ির ভিতর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই ভবনের ‘বি উইং’ অংশটি আচমকা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে।
দমকল আধিকারিকদের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই ওই ভবনের মেরামতির কাজে যুক্ত শ্রমিক বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান করছে পুলিশ। তবে শুধু মৃত উদ্ধারই নয়, উদ্ধারকারী দল এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক আহত কিশোরকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বেশ কয়েকজনের আটকে থাকার সম্ভাবনা প্রবল থাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে প্রশাসন।
দুর্ঘটনাস্থলে সমস্ত রকম অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে একযোগে কাজ করছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), থানে ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (TDRF), দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। উদ্ধার অভিযানকে দ্রুত সফল করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিশেষ ডগ স্কোয়াড, চারটি আধুনিক দমকলের গাড়ি, দুটি জীবনদায়ী অ্যাম্বুল্যান্স এবং ভারী ধ্বংসাবশেষ সরানোর জেসিবি বা ক্রেনের মতো ভারী যন্ত্রপাতি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা প্রতিটি মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবরকম মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, কী কারণে এত বড় একটি ভবন হঠাত্ ধসে পড়ল, তার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।