ল্যাবরেটরির তৈরি এক ভাইরাসে শেষ হবে এক-তৃতীয়াংশ মানবজাতি? ভাইরাল টাইম ট্রাভেলার!

একজন মানুষ কি সত্যিই ভবিষ্যতে ভ্রমণ করে বর্তমান সময়ে ফিরে আসতে পারে? এই প্রশ্নটি বছরের পর বছর ধরে আমাদের সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। সিনেমায় এমন ঘটনা হামেশাই দেখানো হলেও ইন্টারনেটের এই যুগে অনেকেই নিজেদের ভবিষ্যৎ থেকে আগত বলে দাবি করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই একটি ভিডিও ঝড়ের বেগে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক ব্যক্তি নিজেকে ২৭১৪ সাল থেকে আগত একজন টাইম ট্রাভেলার বলে দাবি করেছেন। তিনি বর্তমান পৃথিবীর মানুষদের উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত ভয়ঙ্কর বার্তা পাঠিয়ে সতর্ক করে বলেছেন যে, আগামী ৪০ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে এমন এক বিধ্বংসী মহামারী আঘাত হানবে যা সমগ্র মানবজাতিকে নাড়িয়ে দেবে।

এই স্বঘোষিত সময় পরিব্রাজকের নাম আরি ইয়োরমানি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, ২০৬1 সালে মানুষ ল্যাবে বসে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও কৃত্রিম ভাইরাস তৈরি করবে। এই ভাইরাসটি পরবর্তীতে কোনও এক অজ্ঞাত কারণে ল্যাব থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়বে এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সারা বিশ্বে মহামারী আকারে বিস্তার লাভ করবে। তাঁর দাবি, এই মারাত্মক রোগটি পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি মানুষকে সংক্রামিত করবে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, আক্রান্তদের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর শিকার হবেন। এর অর্থ দাঁড়ায়, এই ভয়াবহ মহামারীর কারণে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ চিরতরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, যা করোনা মহামারীকালের চেয়েও বহুগুণ বেশি ভয়ঙ্কর ও মারাত্মক বলে প্রমাণিত হবে।

আরি ইয়োরমানি শুধু এই মারাত্মক রোগটি নিয়েই থামেননি, বরং আগামী বছরগুলো সম্পর্কে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ও অবিশ্বাস্য দাবি পেশ করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে একবিংশ শতাব্দী ভবিষ্যতের ইতিহাসে “দ্য গ্রেট রিসেট” নামে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এর পাশাপাশি তিনি আরও একটি অদ্ভুত ও শিহরণ জাগানো দাবি করে বলেছেন, “২০২৯ সালে, বিশ্বে একটি অত্যন্ত অদ্ভুত নিয়ম চালু করা হবে। এই অদ্ভুত নিয়মের অধীনে, প্রতি পাঁচ বছরে একবার, পুরো এক সপ্তাহের জন্য বিশ্বের সমস্ত ধরনের অপরাধ, চুরি এবং খুন সম্পূর্ণ বৈধ বলে গণ্য করা হবে।”

এছাড়াও, আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি দাবি করেছেন যে ২০৪৩ সালে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষ একটি নকল ও কৃত্রিম মেঘ তৈরি করবে, যা পুরো পৃথিবীকে একটানা এক বছরের জন্য পুরোপুরি অন্ধকারে ঢেকে রাখবে। এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে প্রকাশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও আলোচনার ঝড় তুলেছে। ইতিমধ্যে ভিডিওটি ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ দেখেছেন এবং হাজার হাজার বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। যেখানে কিছু মানুষ এই সমস্ত ভবিষ্যৎবাণী শুনে গভীরভাবে আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন, ঠিক সেখানেই সিংহভাগ নেটিজেন মনে করছেন এটি কেবল সস্তা প্রচারের আলোয় আসার এবং ভিউ ও লাইক কুড়ানোর একটি অসৎ মাধ্যম মাত্র।