পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে মদন মিত্রকে ৮ ঘণ্টা ম্যারাথন জেরা, মিলল সন্দেহজনক লেনদেনের খোঁজ!

পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বুধবার মদন মিত্রকে প্রায় আট ঘণ্টা একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ইডির তলব ও ম্যারাথন জেরা নিয়ে এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অনেক ভোগান্তি আছে এখনও, যা করেছেন…”। দিলীপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন, কামারহাটির বিধায়কের এক অনুগামী জোর করে একটি হোটেল দখল করে বসে আছেন এবং লিজের মেয়াদ শেষ হলেও তা ছাড়ছেন না। এই ধরনের হাজার হাজার ঘটনা রয়েছে বলে দাবি করে তিনি কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান।

বুধবার বেলা সোয়া ১২টা নাগাদ ইডি দফতরে প্রবেশ করেন মদন মিত্র এবং দীর্ঘ জেরা শেষে রাত আটটার পরে বাইরে আসেন। জেরার মুখে পড়ে কামারহাটির বিধায়ক বলেন, “ওদের যা যা প্রশ্ন ছিল, আমি সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। মুখে বলেছি এবং লিখিতভাবেও দিয়েছি। আমি আশা করব এজেন্সি তারা যা যা উত্তর চেয়েছিল আমি সঠিকভাবেই দিতে পেরেছি।” পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে সরাসরি জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে মদন মিত্রের বিরুদ্ধে।

ইডি সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, কখনও নগদ টাকা, আবার কখনও সোনাদানা ঘুষ হিসেবে নিয়ে কামারহাটি ও টিটাগড় পুরসভায় প্রায় ১২৫ জনকে বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনাকালের পরে ওই পুরসভাগুলোতে চাকরিপ্রার্থীদের নাম সুপারিশ করেছিলেন মদন মিত্র নিজেই, যার সংখ্যা একশোরও বেশি। সেখানে ঠিক কতজন মদন মিত্রের সুপারিশে চাকরি পেয়েছেন, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে ইডি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মদন মিত্রের স্ত্রী ও তাঁর দুই ছেলের নামে থাকা তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মধ্যে দুটিতেই অত্যন্ত সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। তদন্তকারীদের জোরালো অনুমান, সেই সন্দেহজনক লেনদেন আসলে পুরসভায় চাকরি বিক্রিরই কালো টাকা। ২০১৬-১৭ সালের একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আর্থিক লেনদেন সামনে রেখেই এদিন মদন মিত্রকে দফায় দফায় জেরা করা হয়।