টানা বৃষ্টির জেরে ধসে পড়ল মাটির ঘরের দেওয়াল, গভীর রাতের দুর্ঘটনায় শোকে স্তব্ধ গজঘণ্টা এলাকা

হুগলির মগরা থানার গজঘন্টা মালিকপাড়ায় এক ভয়াবহ ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। টানা বৃষ্টির জেরে মাটির ঘরের দেওয়াল ও ভিত সম্পূর্ণ আলগা হয়ে ধসে পড়ে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ় বাবা ও তাঁর ১২ বছরের কিশোরী মেয়ের। নিহতরা হলেন গৌড় মালিক (৫৬) এবং তাঁর মেয়ে মাম মালিক। পেশায় সবজি ব্যবসায়ী গৌড়বাবু তাঁর ওই কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ওই পুরোনো মাটির ঘরেই বসবাস করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত প্রায় দুটো নাগাদ হঠাৎই এক বিকট শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। এরপর তাঁরা দ্রুত ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখতে পান যে গৌড় মালিকের পুরো মাটির বাড়িটি হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে স্তূপে পরিণত হয়েছে। মুহূর্তের মধ্যে প্রতিবেশীরা উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন এবং খবর পাঠানো হয় মগরা থানায়। পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথ উদ্যোগে ধৃতদের চাপা পড়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি; দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক সরকারি প্রকল্পের গাফিলতির অভিযোগ। এলাকাবাসীর দাবি, মগরা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গৌড় মালিকের নামে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার একটি পাকা বাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেইমতো কিছুটা কাজও শুরু হয়েছিল এবং ইটের দেওয়ালও তোলা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, প্রকল্পের সম্পূর্ণ বা পরবর্তী কিস্তির টাকা সময়মতো হাতে না পাওয়ায় সেই অসমাপ্ত পাকা বাড়ির কাজ আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়েই সেই অসম্পূর্ণ পাকা ঘরের বদলে পুরনো ও বিপজ্জনক মাটির ঘরেই দিন কাটাচ্ছিলেন তাঁরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েকদিনের টানা অবিরাম বৃষ্টিতে সেই জীর্ণ মাটির ঘরের ভিত মারাত্মকভাবে আলগা হয়ে গিয়েছিল। যার জেরে গভীর রাতে ঘুমের মধ্যেই এই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যায়। কয়েক মাস আগে আবাস যোজনার একটি কিস্তির টাকা হাতে এলেও তা দিয়ে মাত্র সামান্য কিছু কাজই এগোনো সম্ভব হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নতুন পাকা ঘরে থাকার স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেল; অসমাপ্ত সেই স্বপ্নের নিচেই মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল বাবা ও মেয়ের।