বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল বেঙ্গল এসটিএফ! বর্ধমান থেকে গ্রেফতার কুখ্যাত জৈশ জঙ্গি হামিদ মণ্ডল

রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক বিশাল সাফল্য অর্জন করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা বেঙ্গল এসটিএফের গোয়েন্দারা। গোপন সূত্রে প্রাপ্ত পাকাপোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসটিএফের একটি বিশেষ দল কুখ্যাত সন্ত্রাসী সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের এক শীর্ষ জঙ্গিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ওই জঙ্গির নাম হামিদ মণ্ডল। শুক্রবার ভোরে পূর্ব বর্ধমান জেলার অত্যন্ত পরিচিত ও সুরক্ষিত আবাসিক এলাকা রেনেসা হাউসিং থেকে তাকে সফলভাবে পাকড়াও করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে যে, ধৃত জঙ্গি রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীকে তাদের সরাসরি নিশানায় রেখেছিল এবং বাংলায় বড় ধরনের নাশকতামূলক কার্যকলাপ ঘটানোর পরিকল্পনা করছিল।

গোয়েন্দা সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে, বেশ কিছুদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের নিশানায় ছিল এই জঙ্গি স্লিপার সেল। শুক্রবার সকালে এক আকস্মিক ও ঝটিকা অভিযানে বর্ধমানের রেনেসা হাউসিং ঘেরাও করে এসটিএফের দক্ষ আধিকারিকেরা। বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সুনির্দিষ্ট ছক কষে হামিদ মণ্ডলকে ঘুম থেকেই তুলে ফেলে পুলিশ বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, এই জঙ্গি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুকৌশলে বর্ধমানে আত্মগোপন করে নিজের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজ চালাচ্ছিল। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন রাজ্যের মতো এ রাজ্যেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানোর সুদূরপ্রসারী ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিল সে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অনুমান, হামিদ মণ্ডলের এই গ্রেফতারে জট খুলে যেতে পারে আরও একগুচ্ছ গোপন চক্রের। কোন কোন হাইপ্রোফাইল নেতার ওপর তার নজর ছিল এবং তার সঙ্গে আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক কোন কোন জঙ্গি সংগঠনের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। বর্তমানে তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে যৌথভাবে তাকে জেরা করছেন গোয়েন্দা প্রধানরা। রাজ্যবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে এই গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।