ঐশী ঘোষ গ্রেফতারে তুলকালাম দিল্লি থেকে কলকাতা! বামেদের বিশাল মিছিলের মাঝেই বারুইপুরে হুঙ্কার বিজেপির

দেশজুড়ে সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লাগাতার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশের ছাত্র-যুবসমাজ। এই ক্রমবর্ধমান ছাত্র আন্দোলনের দাবানল এবার আছড়ে পড়ল বাংলার মাটিতেও। একদিকে যখন নিট পরীক্ষার কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে এবং ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষকে হেনস্থা করার চক্রান্তের বিরুদ্ধে কলকাতার বুকে প্রতিবাদী মিছিলে শামিল হলো বামপন্থী সংগঠনগুলি, ঠিক সেই একই দিনে পাল্টা রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে বারুইপুরে মহা মিছিলের ডাক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের এই তরজা ঘিরে বুধবার একযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য-রাজনীতি।
ঘটনার সূত্রপাত গত মঙ্গলবার, যখন জাতীয় রাজধানী দিল্লির আমতার আমতার সিপিএমের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আচমকা চড়াও হয় দিল্লি পুলিশ। এসএফআই (SFI)-এর সর্বভারতীয় যুগ্ম সম্পাদক তথা বিশিষ্ট বাম নেত্রী ঐশী ঘোষকে জোরপূর্বক গ্রেফতার করার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এই নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দুপুর থেকেই তেঁতে ওঠে কলকাতা। যাদুঘর চত্বর থেকে শুরু করে আলোছায়া মঞ্চ পর্যন্ত এক বিশাল প্রতিবাদী মিছিলের আয়োজন করে বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলি। এই মিছিল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার ও পুলিশের একরোখা নীতির বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান তোলা হয় এবং অবিলম্বে ছাত্রনেত্রীদের ওপর থেকে দমনপীড়ন বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
অন্যদিকে, এই বাম আন্দোলনের ঠিক বিপরীত ছবি দেখা গেল দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে। যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার উদ্যোগে এদিন বারুইপুর দলীয় কার্যালয় থেকে পুলিশ সুপারের অফিস পর্যন্ত একটি তীব্র প্রতিরোধ পদযাত্রা করে বিজেপি। বিজেপির তরফ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, সাধারণ ছাত্র-বিক্ষোভের আড়ালে আদতে দেশবিরোধী ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছেন বামপন্থীরা। এই ক্ষোভ থেকেই বারুইপুরের রাজপথে কার্ল মার্ক্স ও ভ্লাদিমির লেনিনের কুশপুত্তলিকা ও পোস্টার পুড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ দেখান বিজেপি কর্মীরা। দুই শিবিরের এই মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।
দিল্লির এই ঘটনা ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে এক বিশাল ভূকম্পনের সৃষ্টি করেছে। বুধবার রাজ্যসভায় এই প্রসঙ্গ জোরালোভাবে উত্থাপন করেন সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস। তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশ কীভাবে বিনা নোটিশে বা আইনি পরোয়ানা ছাড়া জোর করে ঢুকে পড়তে পারে? এই পুলিশি আচরণের তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ ও জবাবদিহি দাবি করে বলেন যে দেশে আজ সাধারণ মানুষ ও গণতন্ত্র চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এই সমস্ত জোরালো আক্রমণের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে আসরে নামেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি জে পি নাড্ডা। তিনি সরাসরি পুরনো জরুরি অবস্থার কালো দিনগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, যারা সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি বা রাজপথের আন্দোলনে নামেন, তাঁদের পুলিশের লাঠিচার্জ বা গ্রেফতারির মুখোমুখি হওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি সর্বদা রাখতে হয়। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে জানান যে জরুরি অবস্থার সময় তাঁকেও ছাত্র আন্দোলন করার অপরাধে দু’বার জোর করে ক্লাসরুম থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। সবমিলিয়ে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন আজ এক সর্বভারতীয় রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে।